ইসলামী দল সমূহের ঐক্য গঠণে আমাদের পরামর্শ এবং ভাবনা। .
ইসলামী দল সমূহের ঐক্য গঠণে আমাদের পরামর্শ এবং ভাবনা।
.
-আরিফ আহমদ চৌধুরী
.
দেশের বড় দুই রাজনৈতিক দলের বাইরে তৃতীয় শক্তি সৃষ্টির যাদের প্রবল সম্ভাবনা সেই ইসলামী ধারার দলগুলোর ঐক্য গঠণের এখনই সময়। বাস্তবতা হলো বর্তমানে দেশের ‘বিকল্প শক্তি’ গড়তে আদর্শগত কারণে বাম দলগুলো সফল হতে না পারলেও ইসলামী ধারার দলগুলোর যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। অথচ ইসলামী ধারার দলগুলো সে চেষ্টা করেছে না কেন? সম্প্রতি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন দল ও জোটের আগমন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাধারণত যেসব দল নির্বাচনকালীন প্রতিষ্টিত হয় মূলত তারা সামান্য সুবিধা লোভের জন্য আত্মপ্রকাশ করে। নির্বাচন করার খাহেশ আদৌ তাদের নেই! এটা বাঞ্ছনীয়। একারণেই মূলত তাদের কোনো অবস্থানও তৈরী হয়না, লাঞ্ছিত হওয়াই শেষ পরিণতি দাড়ায়। গণতান্ত্রিক দেশে এমন হওয়াটা কোনভাবেই সুখকর নয়। আর জোটও ঐ দলের মতো মুদ্রার এপিট ওপিট! হোক যে কোনো ধরণের। তবে দেশ মাতৃকার স্বার্থে যে ঐক্য গঠিত হয় তা ভিন্ন। আমি এখানে শুধুমাত্র সুবিধাভোগী কিছু দল ও জনের কথা বলছি। আমি যে দলের কথা মার্ক করে উল্যেখ করেছি, ‘তারা’ ইসলামী ধারার দল হলেও তাদের আঙ্গিক ভিন্ন। যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত তারা, তাই দল হিসেবে যতই সুসংগঠিত এবং আর্থিকভাবে যতই মজবুত হোক সাধারণ মানুষ তাদের গ্রহণ করছে না। কারণ এদেশের ইসলামপ্রিয় মানুষ মওদুদীবাদকে পছন্দ করে না। তাদের ব্যাপারে আমাদের আকাবিররা যে কথা বলে গেছেন আমিও তা প্রকাশ্য উচ্চারণে একটুও কুণ্ঠাবোধ করছিনা। কারণ লা'নত প্রাপ্তরা কখনোই আল্লাহর নৈকট্য লাভ করবে না। তাই আপোষের অপশন তাদের বেলায় শূণ্য। যত ঝড়ই আসুক না কেন তাতে আমি মোটেও বিচলিত নই। আল্লাহর হুকুম বৈ কিছুর তোয়াক্কা করিনা। কারণ আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
""تعاونوا على البر والتقوى ولا تعاونوا على الا ثم ولعدوان""
সুতরাং আল্লাহর সাহায্যপুষ্ট হলে আর ভয় কিসের।
সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী সকল ইসলামী দলই বন্ধুপ্রতিম, শুধুমাত্র আক্বীদা বিদ্বেষী ব্যথিত। আজকের আলোচনার বিষয় আমাদের জাতীয় ঐক্য নিয়ে, সেক্ষেত্রে আমি স্বার্থান্ধ থেকে নিরাপধ দূরত্বে থাকার চেষ্টা করবো। কেননা দেশে কুরআন-সুন্নাহ তথা ইসলামী হুকুমত প্রতিষ্ঠা করতে ব্যক্তিস্বার্থের চেয়ে সামষ্টিক স্বার্থ অধিক গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বাম দলগুলো তৃতীয় শক্তির ধোঁয়া তুললেও চাঁদাবাজি সুবিধায় ‘এক নেতার এক দল’ থিউরির কারণে তাদের ঐক্যবদ্ধতা যেমন খণ্ড বিখণ্ড হয়েছে, তেমনি ইসলামী দলগুলোকেও সেই প্রভাবের কারণে খণ্ড বিখণ্ড করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে সাহাবায়ে কেরামের সমালোচকরা, যারা ইতোমধ্যেই তাদের কর্মের ফল পেতে আরম্ব করেছে। জাতীয় ঐক্যের বেলায় ঐতিহাসিক সুলে হুদাইবিয়ার সময় মুহাম্মদে আরাবী সা. যে অবস্থানে ছিলেন তাঁরই উত্তরসুরী হিসাবে আমাদেরকেও সেই পথ ও পন্থা অবলম্বন করতে হবে সতর্কতা অবলম্বনে, নয়তো শিরোনামেই তার ইতি ঘটার সম্ভাবনা প্রখর। তাই নিজ স্বার্থকে জলাঞ্জলি দেয়ার মানসিকতা অপরিহার্য। কেননা জাতির স্বর্গীয় রাজ্যের স্বপ্নীল আগামী গঠণে ইসলামী দল গুলোরই অগ্রণী ভূমিকা পালনে সচেষ্ট থাকতে হবে। তবেই কেবল আমরা রাসুলের অনুসারী হিসাবে আত্ম তৃপ্তির ঢেকুঁর গিলতে সক্ষমতা লাভ করবো। প্রিয় মাতৃকার চলমান উদ্ভট পরিস্থিতির জন্য কেবল আমরাই দায়ী। আমাদের অনৈক্য, স্বার্থসাধন, অলসতা জাতির দূর্যোগ টেনে এনেছে। যুগের পর যুগ কি আমরা একই পথে চলবো। (খোদা না করুন) যদি এঅবস্থায় মালাকুল মউত হাজির হন তবে কি জবাব দেওয়ার আছে বিচার দিনের মালিকের কাছে! সময় এখন থেমে নেই। ঐক্যের পানিকে ঘোলা করতেো একদল শকুন উৎপেতে বসে আছে। আমাদেরকে চোখ কান খোলা রেখে পথ চলতে হবে। বাধা, চক্রান্ত, নিন্দা না সয়ে কিন্তু সফলতার মুখ দেখা সম্ভব নয়। সময়ের বিবর্তনে আজ আমরা নদীর উপকূলীয় হয়ে আছি, সামান্য উত্তরে বায়ূ ও দক্ষিণাবহকে অবহেলা মাত্রই জীবনের ইতি অনিবার্য। নিজেদের চতুরতা এবং চূড়ান্ত সতর্কতাই কেবল মাক্বসুদে মাঞ্জিলে পৌছাতে সক্ষম।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সম্ভববত একেরাবেই নিকটবর্তী। এ উপলক্ষ্যে কারো প্রস্তুতিতে কোনো কমতি নেই। সবাই নিজেদের অবস্থান জানান দিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম রাষ্ট্র বাংলাদেশ আজ নাস্তিকতার এক নগ্ন উদাহরণ। مذا ما مذا
তবে আগামীর দিন যেন এমন না হয়। সেজন্য আমাদেরকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতির সুন্দর ও কল্যাণময় ভবিষ্যৎ গড়তে, দেশ ও জনগণের নিমিত্তে সকল ইসলামী দল ঐক্য হয়ে নিজস্ব ও স্বকীয়তার ভিত্তিতে একক ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ সময়ের অপরিহার্য দাবী। আমরা কোনভাবেই স্যাকুলারীদের কে ধর্মের নামে রাজনীতির সুযোগ দেবো না। প্রয়োজনে রুখে দাড়াবো প্রচলিত অপরাজনীতির বিরুদ্ধে, নিঃশেষ করে দেয়া হবে নাস্তিকতার আশ্রয়কেন্দ্র। আমাদের শক্তি ও জনসমর্থন সম্পর্কে অবশ্যই জ্ঞাত আছেন যা ইতোপূর্বে শাপলাচত্বরে দেখানো হয়েছিলো। সুতরাং চ্যালেঞ্জ দেয়ার পূর্বে এর কার্যকারিতা সম্পর্কে ধারণা নিন, যেন সেই চ্যালেঞ্জ আপনাদের ধ্বংসের কারণ না হয়। দেশের সকল ইসলামী দলের ঐক্য জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারে। ইসলামী হুকুমত কায়েমে স্বীকৃত সকল ইসলামী দলের ঐক্য এখন সবচেয়ে বেশী জরুরী। আমাদের ঐক্য বিনষ্টে যারা সবথেকে বেশী কাটি নাড়ছে, আমাদের আকাবিররা ইতোপূর্বে তাদের সোচ্চাচারিতা সম্পর্কে অবগত করে গেছেন। তাই আমরাও সাহাবী বিদ্বেষী আক্বীদা হরণকারীদের থেকে সবসময় দূরত্ব বজায় রেখে চলছি। ওদের সংস্পর্শ যে কোনো কাজের ধ্বংসের মূলমন্ত্র। ইসলামী রাজনীতির নামে এরা জনসাধারণকে ধোকায় ফেলে রেখেছে। জাতীয় মুনাফিক, স্বাধীনতা বিরুধী এই গাদ্দারদের থেকে সবাইকে সচেতনতার ভিত্তিতে পথ চলতে সচেষ্ট থাকার আহ্বান। নিশ্চয় একদিন ইতাহাসের আস্থাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে ওরা। আল্লাহ তা'আলা জালিম দ্বারা জালিমকে নিঃশেষ করেন, আমরা এর বাস্তবতা লক্ষ করছি, আলহামদুলিল্লাহ!
সর্বোপরি জাতীয় ঐক্যের ব্যাপারে আমরাই উদ্যোগী এবং সফলতা আনয়নে বাস্তবতার রূপরেখা তৈরী করতে হবে। প্রকৃত নায়বে রাসূল এবং যুগের হক্বানী উলামায়ে কেরামের দ্বারা পরিচালিত হক্ব ও হক্বানিয়তের পতাকাবাহী সংগঠনের নেতৃত্বে আমাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনই কেবল জাতির সাফল্যের আগামী তৈরী করতে পারে। আমাদের লক্ষ রাখতে হবে, আমরা যেন আবেগের বশবর্তী হয়ে মূল টার্গেট থেকে ছিটকে না যাই। কেননা এরপূর্বে এমন ইতিহাস আমরা লক্ষ্য করেছি, এজন্য আবেগের সাথে বিবেককে কাজে লাগাতে হবে। লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো ইঙ্গ-মার্কিন চানক্যনীতি ও হিল্লি-দিল্লির সাংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে এদেশে ইসলামী রাজনীতির জাগরণ ঠেকানোর চেষ্টা চলছে অনেকদিন থেকে। তারই ধারাবাহিকতায় ইসলামী ধারার দলগুলোর বিরুদ্ধে অব্যাহত বিষোদ্গার এবং ‘ইসলামী ধারার রাজনীতির’ সঙ্গে রাজনীতিতে ‘ধর্মের ব্যবহার’ একাকার করে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। নানা পন্থায় আলেম-উলামাদের ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টা, ঐক্যের চেষ্টা ভুল এবং দেশের মানুষকে ইসলামী শিক্ষায় নিরুৎসাহী করতে মাদ্রাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদ শব্দগুলো দেশের ইসলামবিদ্বেষীরা যেন মাওকা হিসেবে পেয়ে গেছে। তারপরও শুক্রবার জুম্মায় মুসুল্লির উপচে পড়া ভিড়, ওয়াজ মাহফিল ও পীর-দরবেশদের জলসায় লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতি ঠেকানো যাচ্ছে না। দেশের ইসলামপ্রিয় সাধারণ মানুষ তাঁতিয়ে রয়েছে। সারাদেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে কোটি কোটি আলেম-উলামা ও মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষক। ইসলামী দলগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামলে তারা বড় দুই দলের বিকল্প হিসেবে তৃতীয় শক্তি অর্জন করতে পারে।
রব্বো কা'বার শপথ!
আমরা তবেই বিজয়ধ্বনীর আওয়াজ শুনতে পাবো, নয়তো লেজুড়বৃত্তি রাজনীতির মাধ্যমে নিজেদের ঐতিহ্য হারিয়ে সর্বস্ব হারা হয়ে স্বকীয়তাকে কবর দিয়ে অবহেলাপূর্ণ জীবনের সম্মুখীন হবো। আল্লাহ আমাদেরকে হেফাজত করে সঠিক পথের যাত্রী হিসাবে ক্ববুল করুন।
.
মুন্সীবাজার, রাজনগর, মৌলভীবাজার।
০১৭১২-৫৬০৪৬২



No comments
hi freinds