কওমি মাদরাসা: তার নিজ আলোয় আজ আলোকিত!

___ মুহাম্মদ নাজমুল ইসলাম
১.
বৃটিশ বিরোধী স্বাধীনতা যুদ্ধে বিপর্যুস্ত হবার পর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য হযরত কাসিম নানুতুবি দ্বিতীয় একটি পথ বেছে নেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। উদ্দেশ্য, পাপ পঙ্খিলতায় নিমজ্জিত মানবজাতিকে তা থেকে মুক্ত করে চিরস্থায়ী সফলাতার দিকে নিয়ে যাওয়া। আর এ বাণী নিয়েই মহান রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে সর্বশেষ মুক্তির বানী নিয়ে আগমন করেন রাসূলে আরাবী সা.। পবিত্র হেরা গুহায় এ বানীর সূচনা হল। ধীরে ধীরে মক্কা ও মদীনা হয়ে এ বানীর আলোকছটা দিগ-দিগন্তে ছড়িয়ে পড়ল। যার ঝর্ণাধারা মিলিত হলো মাদরে ইলমি দারুল উলূম দেওবন্দ। আর সেজন্যই চলতি ধারার কওমি মাদরাসার শেকড় হলো ভারতে অবস্থিত ঐতিহাসিক দারুল উলূম দেওবন্দ। দেওবন্দ বিশ্বের একমাত্র নিখুঁত এরাবিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, ইলমে হাদীস ও ইলমে তাফসীরের মাকবুল এবং অনন্য দরসগাহ,আউলিয়ায়ে কেরাম এবং মাশায়িখে হিন্দের একমাত্র রুহানি দিক্ষাগার। হিন্দের স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্র সৈনিকদের একমাত্র অবস্থান ক্ষেন্দ্রোই হলো 'দারুল উলূম দেওবন্দ'।
যে বিদ্যাপীঠকে 'আযহারে হিন্দ' বলে আখ্যা দেয়া হয়। এবং সঙ্গে সঙ্গে বলা হয় উলামা ও ফুযালাদের ইখলাস কা তাজমাহাল। এখানেই শেষ না... তা এমন একটি বৃক্ষ,যেটাকে আল্লাহ প্রেমিকরা তারই ইশারা ও ইলহামের মাধ্যমেই তার উপর পূর্ণ ভরসা রেখেই একনিষ্ঠতা ও লিল্লাহিয়্যাতকে পূজি করে রূপণ করেছেন। যার শাখা প্রশাখা আজ সাত সমুদ্র পাড়ি দিয়ে বিশ্বের রন্দ্রে রন্দ্রে ছড়িয়ে পড়ছে। এবং পুরো জাতীকে বিলিয়ে দিচ্ছে তার সুবাস। আলোকিত করছে তার আলোয়। তা এমন একটি চিন্তাচেতনার জ্ঞান সমুদ্র,যা নবুয়াতের বক্ষ থেকে প্রবাহ হয়ে সাহাবাদের বক্ষ বেয়ে হিন্দুস্তান এসে আল্লামা শাহ ওয়ালী উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভি'র বক্ষ ঘেসে মাওলানা কাসিম নানুতবি রাহ.,মাওলানা রশিদ আহমদ গাঙ্গুহি রাহ.মাওলানা ইয়াকূব নানুতবি রাহ.'র মাধ্যমে দেওবন্দের পুস্পবাগানে এসে স্তম্ভিত হয়। যার নদীমালা হিন্দের সীমা অতিক্রম করে আজ বিশ্বের মানচিত্রে বিস্তৃত হয়ে আছে। আর সমগ্র বিশ্বের ইলম পিপাসুরা তার অথবা তার থেকে সৃষ্ট পেয়াল থেকে তাদের ইলমের পিপাসা নিবারণ করছে। যা আজও বিরাজমান।
২.
আর এর আলোয় যারা (অবগাহিত) হলো,মন-মানস তাদের ফুলের মত পবিত্র হলো। সে ফুলের সুবাসে সুবাসিত হতে লাগল চারপাশের পৃথিবী। বর্তমানে এই ফেতনা-ফাসাদের সয়লাবের যুগে সেই সত্যের আলো ধারনকারী একমাত্র বাতিঘর হচ্ছে ক্বওমী মাদরাসা। এখান থেকে শিক্ষাপ্রপ্ত যারা,তারা মুসলিম উম্মাহর দ্বীন ও ঈমানের অতন্দ্রপহরী,বিশ্বমানবতার কল্যান সাধনে নিবেদিত প্রান। ইসলামের প্রচার প্রসার,দ্বীনের নিঃস্বার্থ খেদমত,দেশপ্রেম,আদর্শ নগরী তৈরী,চরিত্র বিনির্মান ও নৈতিকতা শিক্ষাদানে কওমী মাতদরাসার ভূমিকা ও অবদান অনস্বীকার্য। আর এ সাফল্যের অন্যতম কারন কওমী মাদরাসার স্বতন্ত্র শিক্ষাব্যবস্থা। কওমী মাদরাসা সর্বপ্রথম একজন শিক্ষর্থীকে এ কথা শিক্ষা দেয় যে,জীবনের ছোট-বড় সর্ব ক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালার আনুগত্য ও প্রিয় নবীজী সা. এর সুন্নাতকে সামনে রাখা আবশ্যক।
ইখলাস ও খোদভীতি এবং ইত্তেবায়ে সুন্নাতের সমন্বয় সাধনই জীবনের সফলতা অর্জনের একমাত্র মাধ্যম।
কওমী পড়ুয়ারা এই আদর্শে উজ্জীবিত।
আর একজন খাঁটি ঈমানদারের চিন্তাধারা এমনই হওয়া উচিত। কওমী মাদরাসা তাঁর প্রতিটি শিক্ষর্থীকে যত্নের সাথে গড়ে তোলে অল্পেতুষ্টির বিভাময় আদর্শে।
লোভ স্বার্থ ও সঞ্চয়ের বিপরীতে তুষ্টি,পরকল্যান ও স্বার্থবিসর্জনের মহিমাগুলো এখানে যত্নের সাথে আলোচিত অনুশীলিত হয় প্রতিনিয়ত।
এই কওমী ছাদের নিচে শিখানো হয় যে,এই পৃথিবীটা ভোগের জায়গা নয় বরং বিসর্জনের। এখানে যতটুকু না হলেই নয় ততটুকু গ্রহন কর।ভোগ ও স্বপ্ন পূরনের জায়গা বেহেশত,এখানে নয়। এই আদর্শের অবশ্যম্ভাবী ফলাফল আমরা দেখতে পাই যে,কওমী শিক্ষায় শিক্ষিতদের মাঝে অভাব আছে,হতাশা নেই।ক্ষুদা আছে,খাই খাই মনোভাব নেই। মানুষের প্রতি অকৃত্রিম দরদ,সম্প্রীতি,সহানুভূতি,পরমত সহিষ্নুতা ও কল্যানকামিতা আছে। কিন্তু চাঁদাবাজী,সন্ত্রাস ও হানাহানি নেই।প্রসঙ্গত বলতে হয়,শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে,চারিত্রিক উত্কর্ষ সাধন,মানবিক গুনাবলির বিকাশ ও নৈতিকতা অর্জন। কোন জাগতিক স্বার্থসিদ্ধি শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য কখনোই হতে পারেনা।এটা শুধু আমাদেরই কথা নয়। প্রচলিত সকল পার্থিব শিক্ষা প্রতিষ্টানগুলোও শিক্ষার উদ্দেশ্য বর্ননায় এটা অকপটে স্বীকার করে থাকে। কিন্তু বিপরীত শিক্ষিতদের প্রতিনিয়ত চারিত্রিক ধস,ছাত্র কর্তৃক শিক্ষক নির্যাতন,ক্যাম্পাসে অস্ত্রের ঝঙ্কার,ধর্ষনে সেঞ্চুরী,ইভটিজিং এর মহামারী,সহশিক্ষার ছলে অবাধ প্রেম প্রীতি এবং শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীর সম্ভ্রমহানীর অহরহ ঘটনাপ্রবাহ বলে দেয় যে সে সব শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার মূল লক্ষ্য অর্জনে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে


No comments
hi freinds