Buy now

Buy now

সিলেট কারাগারের জায়গায় হচ্ছে গ্রীনপার্ক

সিলেট কারাগারের জায়গায় হচ্ছে গ্রীনপার্ক

স্টাফ রিপোর্ট :
সিলেট কারাগারের জায়গায় নির্মাণ হবে গ্রীনপার্ক। নতুন কারাগার উদ্বোধনের পর পরই পুরাতন কারাগারের স্থানে এই পার্ক নির্মাণ করা হবে। ইতিমধ্যে পার্ক নির্মাণের ডিজাইনের কাজ শুরু করা হয়েছে। অনেক দিন ধরে জল্পনা ছিল স্থানান্তরিত হওয়ার পর পুরাতন কারাগারের ভূমির কী হবে। জল্পনা ছিল- ওই পার্কের স্থানে বিভিন্ন দপ্তরের স্থায়ী আবাসনের জন্য অবকাঠামোগত উন্নয়ন হবে। কিন্তু সেই জল্পনার অবসান ঘটালেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত নিজেই। সম্প্রতি ঢাকায় সিলেটের উন্নয়ন সম্পর্কিত এক বৈঠকে অর্থমন্ত্রী এ তথ্য জানিয়েছেন। এ সময় অর্থমন্ত্রী মন্তব্য করেছেন- সিলেট এমন একটা শহর যেখানে শ্বাস-প্রশ্বাস ফেলার কোনো জায়গা নেই। যত্রতত্র অপরিকল্পিতভাবে মার্কেট ও বাড়িঘর নির্মাণের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাই পুরাতন কারাগারের ভেতরে প্রত্নসম্পদ ও দু’টি পুকুর সুরক্ষিত রেখে একটি গ্রীণপার্ক নির্মাণের ডিজাইন প্রস্তুত করা হচ্ছে। নতুন কারাগার স্থানান্তরের পর এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। সিলেটের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত পুরাতন কারাগার। এই পার্কের একপাশে রয়েছে সিলেট ওসমানী শিশুপার্ক। সেই পার্ক গ্রীনপার্কের সঙ্গে সম্পৃক্ত হবে কী না- সে ব্যাপারে অর্থমন্ত্রী কোনো নির্দেশনা দেননি এখনো। সভার আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে ছিলো সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার, ওসমানী হাসপাতালের  যন্ত্রপাতি, ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল নির্মাণ, আড়াইশ’ শয্যার সদর হাসপাতাল, ছাত্রাবাস নির্মাণ, চৌকিদেখি থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত চারলেন রাস্তা, এয়ারপোর্ট-বাদাঘাট-টুকেরবাজার চারলেন সড়ক, কাজিরবাজার সেতুর সংযোগ সড়ক, বিদ্যুৎ ও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সমস্যা এবং এমসি কলেজ খেলার মাঠ। সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে জানিয়ে সংশ্লিষ্টরা অর্থমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ হবে এবং ডিসেম্বরেই নতুন কারাগারে বন্দি স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে। যানজট নিরসনকল্পে সিলেট নগরীর পার্কিং সুবিধার জন্য রংমহল টাওয়ারের পাশে সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে একটি পার্কিং জোন তৈরি করার কথা জানান অর্থমন্ত্রী। এছাড়া জরুরি ভিত্তিতে সিলেট তেমুখী-বাদাঘাট সড়ক দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেন। ওই সভায় বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন, সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার নির্মাণ গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহাসিক একটি কাজ। যেটার জন্য সিলেটবাসী আজীবন আপনার কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকবে। সভায় সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী নির্মিত কারাগারের কার্যক্রম শুরুর পাশাপাশি যাতায়াতের রাস্তাগুলো প্রশস্তকরণের দাবি জানান। আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন বলেন, নতুন কারাগারে প্রায় আড়াইশ’ পরিবার থাকবে। কারাগারের আশপাশে স্কুল প্রতিষ্ঠান নেই। তাই স্কুল নির্মাণ প্রয়োজন। এছাড়া কারাগারে খেলার মাঠ নির্মাণের দাবি জানান তিনি। জেল কোড অনুযায়ী বাউন্ডারির ভেতরে ৩০ জায়গা থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, আরো জমি অধিগ্রহণ প্রয়োজন। বালুচরে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের জায়গায় ২০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব করেন ডা. দুলাল। ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মোর্শেদ আহমদ মেডিকেল কলেজকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করতে জরুরি ভিত্তিতে ভবন সম্প্রসারণ, নতুন বাস এবং সিটি স্ক্যান ও এমআরআই মেশিন প্রদানের দাবি জানান। এছাড়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের করুণ অবস্থার বর্ণনা দিয়ে ভোগান্তি নিরসনে সিলেটে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং চিকিৎসাসহ সকল সমস্যা নিরসন ও টেকসই উন্নয়নে অর্থমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেন এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান উপস্থিত নেতৃবৃন্দ। জাতীয় অধ্যাপক ডা. শাহলা খাতুন, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও জাতিসংঘস্থ বাংলাদেশ মিশনের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একে আবদুল মোমেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. এহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী, মহানগর সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিসিবি’র পরিচালক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একে মাহবুবুল হক, অধ্যক্ষ ডা. মোর্শেদ আহমদ চৌধুরী, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার এম এ মাহী, নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম বদরুল ইসলাম, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, সিলেটের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী মো. আবদুল আহাদ, সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদসহ সিনিয়র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

No comments

hi freinds

jakwan ahmed. Powered by Blogger.