Buy now

Buy now

সিলেটে বন্যার অবনতি, ত্রাণের অপেক্ষায় দুর্গতরা







স্টাপ রিপোর্টঃ
টানা বৃষ্টি আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটের সাত উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হয়েছে। বৃষ্টি না কমায় পানি বাড়ছে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীতে। বন্যার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে জেলার ১৭৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বন্যা কবলিত এলাকায় প্রয়োজনের তুলনায় ত্রাণ কম আসায় ত্রাণের জন্য অপেক্ষা করছেন দুর্গতরা। তবে জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত পরিমাণ ত্রাণ আছে। এসব ত্রাণ দুর্গতদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার জানান, কুশিয়ারা অববাহিকায় ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, ওসমানীনগর উপজেলার বন্যার পানি কিছুটা বেড়েছে। গোয়াইনঘাট উপজেলায় অপরিবর্তিত থাকলেও নতুন করে প্লাবিত হয়েছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চল।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম জানান, কুশিয়ারা ও সুরমার পানি এখনো বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি না কমলে বন্যার পানি কমার সম্ভাবনা নেই।

এদিকে নদীর পানি তীর উপচে প্রবেশ করায় প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ছয় উপজেলার সুরমা ও কুশিয়ারা অববাহিকায় নদীর তীরের দুই শতাধিক গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। বন্যায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি এলাকা। পানিবন্দি অবস্থায় আছেন সাত উপজেলার তিন লাখেরও বেশি মানুষ।

পানিতে বাড়িঘর ডুবে যাওয়ায় অনেকে ঠাঁই নিয়েছেন আশ্রয় কেন্দ্রে। জেলায় নয়টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৮৯টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানান জেলা প্রশাসক।

বন্যাদুর্গত এলাকায় অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে মানুষ। দুর্গতরা ত্রাণের আশায় পথ চেয়ে বসে থাকলেও খুব একটা দেখা মিলছে না ত্রাণের।

বিয়ানীবাজারের শেওলা এলাকার আব্দুল হাফিজ জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে কেউ নেই। বাড়ি-ঘর বন্যায় ডুবে গেছে। এখন পর্যন্ত কোনো ত্রাণ বা সাহায্য পাইনি। ঘরে পানি ওঠায় চুলায় আগুন জ্বলছে না, শুকনা খাবারও পাওয়া যাচ্ছে না।

বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দাল মিয়া জানান, বন্যায় যে পরিমাণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে পরিমাণ ত্রাণ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই কেউ পাচ্ছে আবার কেউ পাচ্ছে না।

জেলা প্রশাসক রাহাত আনোয়ার জানিয়েছেন, দুর্গত এলাকায় এ পর্যন্ত ১৩৭ মেট্রিকটন চাল ও প্রায় তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এখনো পর্যাপ্ত পরিমাণ ত্রাণ মজুদ রয়েছে। এসব ত্রাণ দুর্গত মানুষদের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে।

ঢাকাটাইমস/৩জুন/প্রতিনিধি/এমআর

No comments

hi freinds

jakwan ahmed. Powered by Blogger.