Buy now

Buy now

পর্ণোগ্রাফির ভয়াল থাবায় হুমকির মুখে মানবতা



             আব্দুল্লাহ আল মামুন
                     
পর্ণোগ্রাফি বর্তমানে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া একটি মারাত্ম ব্যাধি । যা এতটাই ভয়ানক যে, একটা ছেলে কিংবা মেয়ের নৈতিক অবনতি থেকে শুরু করে পারবারিক ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির বড় কারণের মধ্যে একটি । তাই এই নোংরা কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা একজনন মানুষ
হিসেবে অত্যাবশ্যক ।
আল্লাহ্‌ সূরা নূরের ৩০নম্বর আয়াতে বলেন, “হে রাসূল, মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য পবিত্রতা রয়েছে। নিশ্চয়ই তারা যা করে, আল্লাহ তা অবহিত আছেন।”
আল্লাহ বলেন, “তাদের বলে দাও(হে মুহাম্মাদ):আমার প্রতিপালক প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অশ্লীলতা,পাপকাজ..নিষিদ্ধ করেছেন।”(৭:৩৩)
তাই ঘরের চার দেয়ালে আটকে থেকে পর্ণ দেখা বা যাবতীয় অশ্লীলতা সবই হারাম।কুরআনে আল্লাহ সুবহানা ওয়া তাআ’লা অশ্লীল কাজ ও কথাবার্তার ধারে কাছে যেতেও বারণ করেছেন তা প্রকাশ্যেই হোক কিংবা গোপনে।এই একই আয়াতে আল্লাহ শিরক ও হত্যার মত ভয়াবহ অপরাধ সম্বন্ধে আমাদের সচেতন করেছেন।এইবার বুঝুন তাহলে কত প্রবল এই পর্নোগ্রাফির আযাব।আল্লাহ আমাদেরকে খুব ভালভাবেই চিনেন কারণ তিনিই আমাদের সৃষ্টি করেছেন।আমাদেরকে দুর্বল করে তৈরি করা হয়েছে।তাই আমাদের হারাম থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা কম চ্যালেঞ্জিং না।
আল্লাহ বলেন, “যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে তাদের জন্য আছে দুনিয়া ও আখিরাতে পীড়াদায়ক শাস্তি এবং আল্লাহ জানেন,তোমরা জানো না।” (২৪:১৯)
শয়তানের এই মারণাস্ত্র থেকে বেঁচে থাকার তাগিদ মহান আল্লাহ বার বার দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, “হে ঈমানদারগণ, তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। যে কেউ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে, তখন তো শয়তান নির্লজ্জতা ও মন্দ কাজেরই আদেশ করবে।”
পর্ণোগ্রাফি সর্ম্পকে আধুনিক গবেষকদের মতামতঃ
১।:কাগজ, সেলুলয়েড ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে অপ্রাকৃতিক যৌন অভিজ্ঞতায় এত বেশি সময় খরচ করায় তাদের জন্য সত্যিকারের মানুষের সাথে সেক্স করাটা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। পর্নোগ্রাফি তাদের যৌন অভিজ্ঞতার ধরণ ও পরিমাণ নিয়ে প্রত্যাশা ও চাহিদা বাড়িয়ে দিচ্ছে, একই সময়ে সেক্স উপভোগ করার ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে।” – ড. ম্যারিঅ্যান ল্যাডেন
২.পর্ণ মুভি দেখার ফলে অনেকেই  যৌন সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন পর্ণ । পুরুষের যৌবন বিনষ্ট কারী বা বিছানায় ঠিক স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না  সংসারে শুরু হয় অশান্তি । “ডাক্তারি অভিজ্ঞতায়ও দেখেছি, পর্নোগ্রাফি দর্শকের যৌন-কর্মক্ষমতার ক্ষতি করে। পর্ন-দর্শকদের প্রিম্যাচিউর ইজ্যাকুলেশন (দ্রুত বীর্যপাত) এবং ইরেকটাইল ডিসফাংশনে (পুরুষাঙ্গ শৈথিল্য) ভোগার প্রবণতা থাকে।
৩.Wired for Intimacy-এর লেখক ড. উইলিয়াম স্ট্রাদারস একই আশংকা করেন, পর্ন দেখা এবং হস্তমৈথুন মস্তিষ্কের সিঙ্গুলেট কর্টেক্স নামের একটা অংশকে দুর্বল করে দেয়। এই অংশটি নৈতিক সিদ্ধান্ত গঠন এবং ইচ্ছাশক্তি নিয়ন্ত্রণ করে।
৪.পর্ণ-বিরোধী সক্রিয় কর্মী গেইল ডাইন্স বলেন, যে তরুণেরা পর্ণে আসক্ত হয়ে পড়ে, তারা “স্কুলের কাজে অবহেলা করে, প্রচুর পরিমাণে অর্থ ব্যয় করার প্রবণতা দেখায় যা তাদের নেই, অন্যদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, এবং প্রায়ই হতাশায় ভোগে”। ইউনিভার্সিটি অফ ইলিনোয়া অ্যাট শিকাগো থেকে বায়োসাইকোলজি-তে পি.এইচ.ডি অর্জনকারি ডঃ উইলিয়াম স্ট্রুদারস উপরোল্লিখিত প্রভাবগুলো সম্বন্ধে নিশ্চিত করেন এবং আরও কিছু যোগ করেন। তার গবেষণা অনুযায়ী, পুরুষ যারা পর্ণ ব্যবহার করে তাদের ব্যক্তিত্বে আধিপত্যশীলতা, প্রচণ্ড অন্তর্মুখীতা, বিকারগ্রস্থ, আত্মমুগ্ধ, কৌতুহলী, নিজের ব্যাপারে আস্থাহীন, হতাশ, নিঃসঙ্গ, অমনোযোগী। লক্ষ্যণীয় যে, পর্ণ দেখার ফলে যদিও ক্ষণস্থায়ী সুতীব্র শারীরিক সুখানুভূতির সৃষ্টি হয়, কিন্তু এর ফলে সৃষ্ট নেতিবাচক মনস্তাত্বিক প্রভাব হয় প্রলম্বিত।
হাদিসের আলোকে ব্যাভিচার বা পর্ণোগ্রাফিঃ
১। কোন পুরুষ বা নারীর উচিৎ নয় অপর কোন পুরুষ বা নারীর গোপনাঙ্গের দিকে দৃষ্টিপাত করা যদি না তারা বিবাহিত হয়।(মুসলিম)
২। আমার রবের কসম, কারো গোপনাঙ্গের দিকে তাকানোর চেয়ে বা কাউকে আমার গোপনাঙ্গ দেখানোর চেয়ে আমি আকাশ থেকে নিক্ষিপ্ত হওয়া ও তারপর খণ্ড খণ্ড টুকরায় ভাগ হওয়াই বেছে নিব।(সালমান(রাঃ) কর্তৃক বর্ণনাকৃত)
৩। কারোর সামনে তোমার থাই অনাবৃত করো না এবং অন্য কারোর থাই এর দিকেও নজর দিয়ো না হোক সে জীবিত বা মৃত কিংবা নারী অথবা পুরুষ।(ইবনে মাজাহ,আবু দাউদ)
৪। আল্লাহ তাআ’লা আদম সন্তানের জন্য তার জিনার অংশ লিখে রেখেছেন যা সে অবধারিতভাবে করে।চোখের জিনা হল যা সে দেখে(হারাম জিনিসপত্র),মুখের জিনা হল যা সে বলে(হারাম জিনিসপত্র)।আর তার ভেতরের মনটা তা কামনা করে।তার গোপনাঙ্গ হয় এসবের সাক্ষী হয় নয় এগুলো বর্জন করে।(বুখারি,মুসলিম,আবু দাউদ)
পর্ণোগ্রাফিতে আসক্ত হওয়া ছেলে-মেয়েদের জন্য কিছু
উপদেশঃ
১. নিজেকে মানুষ হিসেবে কি করা উচিত এবং কি করা উচিত নয়, তা নিয়ে ভাবুন।
নিজেকে একজন প্রকৃত মানুষ অর্থাৎ মুসলিম হিসেবে চিন্তা করুন ।‌‌
২। একজন মুসলিম হিসেবে আল্লাহ সুবাহানওয়া তা’আলা কে সর্বোচ্চ ভয়
করুন ।আল্লাহর ভয়কে নিজের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত করতে রাসূল (সা) এর সুন্নাহ অনুসরণ করুন ।
৩।ভালো-মন্দহিসেব করতে ইসলামকে সামনে আনুন । দ্বীনের প্রতি শ্রদ্ধা ও আনুগত্য দেখে বন্ধু নির্বাচন করুন ।
৪। অবসর সময়ে একাকী না থেকে (দ্বীনি) বন্ধুদের সাথে থাকুন ।পবিত্রতার সাথে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত জামা’তে আদায় করুন এবং ঘরে নফল সালাত আদায়ের অভ্যাস গড়ুন ।
৫।পরিবারের মানুষের সাথে লজ্জাশীলতা বজায় রাখুন । ‌‌‌যেকোন মেয়ে থেকে নিজের চোখকে হেফাজত করুন । বিয়ের ইচ্ছে জাগলে (সামর্থ্যবান হলে) বাবা-মা কিংবা অভিভাবকদের বলুন এবং আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করুন । ‌‌
বিয়ের পর নিজ স্ত্রীর উপর সন্তুষ্ট থাকুন । স্ত্রী সুন্দর না হলে আখিরাতে এর উত্তম প্রতিদান পাওয়ার আশা করুন ।
৬। বাসায় টিভি, ভিসিআর থাকলে সবাই যাতায়াত করে এবং বসে এমন রূমে রাখুন ।মন খারাপ লাগলে বিভিন্ন কারীদের কুরআন তিলাওয়াত শুনুন ।
৭। বিভিন্ন স্কলারদের ইসলামিক চিন্তাভাবনা পড়ুন । বিশ্বেরবিভিন্ন প্রান্তে নির্যাতি মুসলিমদের নিয়ে চিন্তা করুন । তাদের সাহায্যকরতে পরিকল্পনা করুন ।৮। বিভিন্নইসলামিক কাজে নিজেকে জড়িত করুনএবং আগ্রহের সাথে কাজ করুন ।কোন খারাপ চিন্তা মাথায় আসলে, সাথে সাথে আল্লাহর নিকট তাওবা করুন ।৯। নিজেকে একজনযৌনকর্মী থেকে পৃথকভাবে ভাবতে শিখুনএবং এসব আচরণকে মন থেকে ঘৃণা করুন।১০। ‘আপনার প্রতিটা (ভালো/মন্দ)কর্ম আল্লাহ দেখছেন এবং দু’জন ফেরেস্তা তা লিখে রাখছেন’ –বিষয়টি মাথায় রাখুন এবং জাহান্নামের শাস্তিকে ভয় করুনউপরের উপদেশগুলো মেনে চললে,পর্ণোগ্রাফির মতো বর্বর পাপথেকে নিজেকে রক্ষা করা যাবে ।ইন শা আল্লাহ ...পর্নোগ্রাফিক মুভি দেখা,এই ধরণের গান শোনা বা গাওয়া,নিজের হাত বা পা এর অপব্যবহার করা এসবই ধীরে ধীরে জিনার দিকে টেনে নেয় ও ঈমান ধ্বংস করে দেয়।একবার এই সাইকেলে আটকা পড়লে এই সাইকেলভাঙ্গাটা অনেক চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায় বিশেষত তরুণ ভাই বোনদের জন্য।কিন্তু আল্লাহ কখনই আমাদের নিঃসঙ্গ হতে দিতে নারাজ।আর এই ভালোবাসা ও নিজের সচ্চেষ্টাকে আগলে নিয়ে নিজেদের নফসের বিরুদ্ধে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।দুয়া করি আল্লাহ রাব্বুল আ’লামিন যাতে আমদের আত্মিক ও শারীরিক উভয়ভাবেই নিরাপদ রাখেন। আমিন।
Abdullaalmamunkr@gma­il.com

No comments

hi freinds

jakwan ahmed. Powered by Blogger.