বিদেশে বাংলাদেশী কর্মীদের দুর্দিন
বিদেশে বাংলাদেশী কর্মীদের দুর্দিন
আর কত দিন চলবে এই অমানবিকতা?
বাংলাদেশে জাতীয় আয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিদেশে কর্মরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। অর্ধশিক্ষিত ও অদক্ষ বাংলাদেশীরা নানা ধরনের বঞ্চনা, হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েও বিপুল পরিমাণ আয় দিয়ে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রাভাণ্ডার সমৃদ্ধতর করছেন। কিন্তু তারা দেশের বাইরে যে অমানবিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার, তা দীর্ঘ দিন ধরে চললেও এর অবসানে নেই কোনো কার্যকর পদক্ষেপ। বরং মাঝেমধ্যেই গণমাধ্যম সূত্রে আমরা জানতে পাই, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশীরা আমাদের দূতাবাসের মাধ্যমেও অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হন। বারবার আলোচনা-সমালোচনা হলেও এ সমস্যা সমাধানে কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। ফলে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশী কর্মীদের দুর্দিন বেড়েই চলেছে। এখন এ সমস্যা আরো জটিল হয়ে উঠছে।
সহযোগী একটি দৈনিকের খবরে জানা গেছেÑ দেশে দেশে নানা সমস্যা পোহাচ্ছেন বাংলাদেশী কর্মীরা। চাকরিচ্যুতি, গ্রেফতার আতঙ্ক, কাক্সিক্ষত কাজ না পাওয়া, প্রভৃতি কারণে তাদের প্রবাসজীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, কুয়েত, কাতার ও লিবিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশে মোটেও ভালো সময় যাচ্ছে না তাদের। বৈশ্বিক রাজনীতির নানা টানাপড়েন এবং তেলের দাম পড়ে যাওয়ায় এসব সমস্যা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া কাজের চাহিদা না থাকলেও কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি নানা ফন্দিফিকির করে সেসব দেশে কর্মী পাঠিয়ে তাদের ভোগান্তিতে ফেলছে। অন্য দিকে অবৈধভাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার পথে অনেক দেশের সীমানা পার হতে পারছেন না তারা। ফলে বিদেশের মাটিতে আটকা পড়ছেন বাংলাদেশীরা। কেবল তুরস্কেই আটকা পড়েছেন প্রায় দুই হাজার বাংলাদেশী। তারা সেখানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সৌদি আরবে শ্রমিকদের চাকরি হারানোর প্রথম ধাক্কাটি আসে ২১ এপ্রিল। ওই দিন সৌদি প্রশাসন একটি নির্দেশিকা জারি করে বলে, এখন থেকে সৌদি আরবের শপিংমলগুলোতে প্রবাসীরা চাকরি করতে পারবে না। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সে দেশে শপিংমলে কর্মরত কয়েক হাজার বাংলাদেশী বেকার হয়ে পড়বেন। খুচরা দোকানগুলোতে ১৫ লাখ শ্রমিকের মধ্যে মাত্র তিন লাখ সৌদি নাগরিক। দেশটিতে কাজ না পেয়ে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এক শ্রেণীর প্রতারক ফ্রি ভিসার নাম করে ভুয়া ভিসায় সে দেশে পাঠিয়ে তাদের সর্বনাশ ডেকে আনছে।
এভাবে খোঁজ নিলে দেখা যাবে, অন্যান্য দেশেও নানাভাবে বাংলাদেশী কর্মীরা দুঃসহ ভোগান্তির মধ্যে জীবনযাপন করছেন। দেশে রুজি-রোজগারের পথ না পেয়ে অনেকে জায়গা-জমি বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা দালালদের তুলে দিয়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। অনেকে বিভিন্ন দেশে বন্দী অবস্থায় বাধ্যতামূলক শ্রম দিয়ে চলেছেন কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই। অনেক ক্ষেত্রে এরা প্রয়োজনীয় খাবারও পুরোপুরি পাচ্ছেন না। অনেকে অমানবিকভাবে শ্রম দিতে দিতে অসুস্থ হয়ে মারা যাচ্ছেন।
বাংলাদেশে শ্রমিক রফতানির ক্ষেত্রে বরাবর এক ধরনের বিশৃঙ্খলা বিদ্যমান। স্বার্থান্বেষী মহল এই বিশৃঙ্খলা ইচ্ছা করেই দূর করতে দিচ্ছে না। কিন্তু এর চরম শিকার হচ্ছেন প্রবাসে বাংলাদেশী কর্মীরা। এর একটা সুরাহা করা দরকার অবিলম্বে। তা করতে হবে সরকারকেই। অথচ সরকার বরাবর এ ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে চলেছে। এখন প্রশ্ন, আর কত দিন চলবে বিদেশে বাংলাদেশী কর্মীদের এই দুর্দিন?



No comments
hi freinds