হঠাৎ রাজপরিবারে ক্যু: কোন দিকে যাচ্ছে সৌদি আরব?
স্টাফ রিপোর্টারঃ
সৌদি রাজপরিবারে ক্যু হয়ে গেল বুধবার। ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েফকে সরিয়ে দিয়ে এই পদ দখল করেছেন ডেপুটি ক্রাউন্স প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। নতুন ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স বর্তমান বাদশাহ সালমানের ছেলে।
সালমান ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর সৎ ভাই নায়েফকে ক্রাউন প্রিন্স করেছিলেন। ক্রাউন প্রিন্স হচ্ছেন সৌদি ক্ষমতাকেন্দ্রের দ্বিতীয় ব্যক্তি। বর্তমান বাদশাহ ক্ষমতা ছাড়ার পর ক্রাউন প্রিন্সই বাদশাহর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এ হিসেবে মোহাম্মাদ বিন সালমান তার বাবার উত্তরসূরী হওয়ার পথে সব বাধা দূর করে রাখলেন।
কিন্তু এ সংক্রান্ত রাজকীয় ডিক্রিতে যেসব তথ্য দেয়া হয়েছে তাতে ক্ষমতা নিয়ে সৌদি রাজপরিবারের মধ্যে বড় ধরনের দ্বন্দ্বের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ডিক্রিতে জানানো হয়েছে, নতুন ক্রাউন প্রিন্সের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন করেছেন রাজপরিবারের ৬৫ প্রভাবশালী সদস্যের মাত্র ৩৪ জন। বাকি ৩১ জন তার বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। এটি অনেকটা নজিরবিহীন। সাধারণত রাজকীয় সিদ্ধান্তের পক্ষে বড় ধরনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকে। কিন্তু নতুন ক্রাউন প্রিন্সের ক্ষেত্রে তা হয়নি।
এ থেকে ধরেই নেয়া যায় বড় ধরনের বিরোধিতার মধ্যে থাকার কারণে যে কোনো মুহুর্তে দৃশ্যপট পাল্টে যেতে পারে মোহাম্মদ বিন সালমানের সামনে। বিশেষ করে তার বাবার স্মৃতিশক্তি লোপ পাওয়া বিষয়টা মাথায় রাখলে পরিস্থিতিকে আরও জঠিল মনে হয়। যে কেউ সালমানকে তার পক্ষে নিয়ে ব্যবহারের চেষ্টা করতে পারে।
আবার ইয়েমেন যুদ্ধ, অর্থনৈতিক সংস্কার, কাতার সংকট, সিরিয়া সংকট ইত্যাদি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যখন শক্তিশালী ঐক্য দরকার রাজপরিবারের, তখন নতুন বিভাজন সৌদি সরকারকে দুর্বল করবে।
সব মিলিয়ে নতুন সংকটের দিকে সৌদি রাজপরিবার এগুচ্ছে বলেই বিশ্লেষকদের ধারণা।
ওদিকে ফিলিস্থিন ভিত্তিক শিহাব নিউজ এজেন্সি গত কয়েকদিন থেকেই বেশ কিছু এক্সক্লসিভ ডকুমেন্টস প্রচার করে যাচ্ছিলো যাতে দেখা যায়, সৌদি আরবে কয়েক দিনের মধ্যেই কু্য হতে যাচ্ছে। তাদের ডকুমেন্টস প্রচারের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কু্য হয়ে গেল।
নতুন ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান বয়সে সবচেয়ে তরুণ (৩১) । বাদশা সালমানের ভগ্ন স্বাস্থ্যের জন্য যে কোন অঘটনে মোহাম্মদই হচ্ছেন পরের বাদশা । হঠাৎ উঠে আসা এই রাজপুত্রের আগে দেশের গুরুত্বপূর্ণ দ্বায়িত্ব পালনের কোন নজির নাই। ২০১৫ জানুয়ারির আগে সাধারণ সৌদিদের মাঝেও তার কোন পরিচিতি ছিলো না । মোহাম্মদ বিন সালমান ডেপুটি ক্রাউন প্রিন্স ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হয়েই আরব-ইসলামিক সামরিক বাহিনী গঠনের তোরজোড় শুরু করেন। চিন্তা ভাবনা না করেই ইয়েমেন যুদ্ধ শুরু করার মুখ্য ভূমিকাও তার।
বিশ্লেষকদের মতে, আরব-ইসলামিক সামরিক বাহিনীর আড়ালে মূলত মোহাম্মদ পরবর্তী বাদশা হওয়ার জন্য নিজের পেশীশক্তি বাড়াতে থাকেন। ফলে অনেকটাই কোনঠাসা হয়ে পরেন ক্ষমতাচু্যত ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েফ । বিন নায়েফ সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীও ছিলেন। সে পদটিও তিনি হারিয়েছেন। এদিকে আল-জাজিরা লিখেছে পদচু্যত ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নায়েফ সম্প্রতি কাতারের উপর আরোপিত সৌদি-আমিরাতি অবরোধে মোটেও একমত ছিলেন না। রাজ পরিবারে তিনি কিছুটা চিন্তাশীল, ঠাণ্ডা মাথার মনে করা হতো । অপরদিকে কাতার অবরোধের মুল ভূমিকা পালন করেন আমিরাতের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন নাহিয়ান। তার সাথে হাত মেলান নতুন সৌদি প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান



No comments
hi freinds