নদীতে পানি বৃদ্ধি, বন্যা পরিস্থিতি ফের অবনতি
নদীতে পানি বৃদ্ধি, বন্যা পরিস্থিতি ফের অবনতি
তাজ উদ্দিন হানাফি পূর্ব ও উত্তর অঞ্চলের কয়েকটি জেলায় নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া শ্রাবণের শেষে কয়েকদিন ধরে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে কুড়িগ্রাম ও দিনাজপুরে বন্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।এ দুই জেলায় সবকটি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ৯ লাখ মানুষ।রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রাপ্ত খবরে বন্যার কারণে দুই জেলায় ১৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
এছাড়া দেশের আরও কয়েকটি জেলায় ফের ভয়াবহ বন্যার আশংকা দেখা দিয়েছে।
কুড়িগ্রাম
জেলার ৯টি উপজেলার ৫৭ ইউনিয়নের প্রায় চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যায় এ পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
পানি অস্বাভাবিকহারে বৃদ্ধি পাওয়ায় রোববার বিকালে ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ১২৪ সেন্টিমিটার এবং চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি ৩৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
কুড়িগ্রামের কাঠালবাড়ী, রাজারহাটের কালুয়া ও ফুলবাড়ীর গোড়কমণ্ডল এলাকায় বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।
বিভিন্ন স্থানে সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় জেলার সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে।
জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলা ও ত্রাণ তৎপরতা সচল রাখতে সব ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জেলার সরকারি ও বেসরকারি সকল বিভাগকে বন্যার্তদের পাশে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
তিনি জানান, দুর্যোগ মোকাবেলায় সেনাবাহিনী, বিজিবি ও আনসার বিভাগকে সার্বিক সহযোগিতার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ টিম বাঁধ সংস্কারের কর্ম-পরিকল্পনা ও সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে মাঠে কাজ শুরু করেছে।
দিনাজপুর
দিনাজপুরে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। জেলার সবকটি নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভেঙে গেছে দিনাজপুর শহর রক্ষা বাঁধসহ বেশ কয়েকটি নদীর বাঁধ। বন্যাজনিত কারনে জেলায় রোববার ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বাঁধ রক্ষায় ও বানভাসী মানুষকে উদ্ধারের জন্য মোতায়েন করা হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিজিবিকে। বাড়িঘর ডুবে গিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছে জেলার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ।
এদিকে বন্যাজনিত কারণে পানিতে ডুবে, সর্প দংশনে এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়জুর রহমান জানান, পুনর্ভবা নদীর পানি বিপদসীমার দশমিক ৭৮ সেন্টিমিটার এবং আত্রাই নদীর পানি দশমিক ৫০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও সবকটি নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
দিনাজপুর শহর রক্ষা বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় সেই বাঁধ সংস্কারে বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। বিজিবি ব্যর্থ হওয়ায় দুপুরে বাঁধ সংস্কার ও বানভাসী মানুষকে উদ্ধারে মোতায়েন করা হয় সেনাবাহিনী।
নওগাঁ
নওগাঁর মান্দার আত্রাই নদীর উভয় তীরে বেঁড়িবাঁধের দুইটি স্থান ভেঙে প্রায় দুইশ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এছাড়া প্রায় ১০০ হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। উপজেলার নূরুল্ল্যাহবাদ ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
রোববার আত্রাই নদীর পানি বিপদ সীমার ৮০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সকাল ৯টায় নূরুল্ল্যাবাদ গ্রামে আত্রাই নদীর বাম তীরে এবং দুপুর ১২টায় নূরুল্ল্যাবাদ উত্তরপাড়া গ্রামে আত্রাই নদীর ডান তীর ভেঙে যায়।
নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে আত্রাই নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। এতে সকাল থেকে ওই দুই এলাকা হুমকির মুখে ছিল। এক পর্যায়ে পানির চাপে তা ভেঙে যায়। এতে দুইটি এলাকার প্রায় দুইশ পরিবার পানিবন্দী এবং প্রায় ১০০ হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে যায়।
এছাড়া জেলার ধামইরহাট উপজেলার শিমুলতলী আত্রাই নদীর পানি বিপদসীমার ১২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে এবং মান্দার জোতবাজারে আত্রাই নদীর পানি বিপদসীমার ৮০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে পত্নীতলা উপজেলা আত্রাই নদীর কাঁচারি এলাকায় বাঁধ ভাঙ্গার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী বালি বস্তার মাধ্যমে বাঁধ ভাঙনরোধে চেষ্টা করছেন। বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
মান্দা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রেজাউল করিম বাঁধ ভেঙে পরিবার পানিবন্ধি ও ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সিরাজগঞ্জ
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের টানা বর্ষনে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে রোববার বেলা ২টায় শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টে বিপদসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে নিম্নাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেকশন অফিসার রনজিৎ কুমার সরকার জানান, বৃহস্পতিবার থেকে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে।
রোববার সকাল ৬টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত যমুনা নদীর পানি ২৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানান, যমুনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও এখনও সেভাবে বন্যা শুরু হয়নি।
সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। সীমান্তের ওপার থেকে আসা পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিপাতে সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৮১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড।
সীমন্তবর্তী উপজেলাগুলোর অনেক সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন এসব এলাকার মানুষ। সুনামগঞ্জ শহরের নবীনগর-ধাড়ারগাঁও সড়ক উপচে শহরের ভেতরে প্রবল বেগে পানি ঢুকছে। শহরের তেঘরিয়া ঘাট এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
বন্যায় প্রায় চার হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ধান পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। দ্রুত পানি না কমলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। বন্যার কারণে গো-খাদ্যের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
৮৯০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অর্ধশতাধিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পানি প্রবেশ করেছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
এছাড়া দেশের আরও কয়েকটি জেলায় ফের ভয়াবহ বন্যার আশংকা দেখা দিয়েছে।
কুড়িগ্রাম
জেলার ৯টি উপজেলার ৫৭ ইউনিয়নের প্রায় চার লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। বন্যায় এ পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
পানি অস্বাভাবিকহারে বৃদ্ধি পাওয়ায় রোববার বিকালে ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ১২৪ সেন্টিমিটার এবং চিলমারী পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি ৩৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
কুড়িগ্রামের কাঠালবাড়ী, রাজারহাটের কালুয়া ও ফুলবাড়ীর গোড়কমণ্ডল এলাকায় বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।
বিভিন্ন স্থানে সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় জেলার সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে।
জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ ফেরদৌস খান জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলা ও ত্রাণ তৎপরতা সচল রাখতে সব ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জেলার সরকারি ও বেসরকারি সকল বিভাগকে বন্যার্তদের পাশে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
তিনি জানান, দুর্যোগ মোকাবেলায় সেনাবাহিনী, বিজিবি ও আনসার বিভাগকে সার্বিক সহযোগিতার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ টিম বাঁধ সংস্কারের কর্ম-পরিকল্পনা ও সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে মাঠে কাজ শুরু করেছে।
দিনাজপুর
দিনাজপুরে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করছে। জেলার সবকটি নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভেঙে গেছে দিনাজপুর শহর রক্ষা বাঁধসহ বেশ কয়েকটি নদীর বাঁধ। বন্যাজনিত কারনে জেলায় রোববার ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বাঁধ রক্ষায় ও বানভাসী মানুষকে উদ্ধারের জন্য মোতায়েন করা হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিজিবিকে। বাড়িঘর ডুবে গিয়ে গৃহহীন হয়ে পড়েছে জেলার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ।
এদিকে বন্যাজনিত কারণে পানিতে ডুবে, সর্প দংশনে এবং বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়জুর রহমান জানান, পুনর্ভবা নদীর পানি বিপদসীমার দশমিক ৭৮ সেন্টিমিটার এবং আত্রাই নদীর পানি দশমিক ৫০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও সবকটি নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানান তিনি।
দিনাজপুর শহর রক্ষা বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় সেই বাঁধ সংস্কারে বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। বিজিবি ব্যর্থ হওয়ায় দুপুরে বাঁধ সংস্কার ও বানভাসী মানুষকে উদ্ধারে মোতায়েন করা হয় সেনাবাহিনী।
নওগাঁ
নওগাঁর মান্দার আত্রাই নদীর উভয় তীরে বেঁড়িবাঁধের দুইটি স্থান ভেঙে প্রায় দুইশ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এছাড়া প্রায় ১০০ হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে। উপজেলার নূরুল্ল্যাহবাদ ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
রোববার আত্রাই নদীর পানি বিপদ সীমার ৮০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সকাল ৯টায় নূরুল্ল্যাবাদ গ্রামে আত্রাই নদীর বাম তীরে এবং দুপুর ১২টায় নূরুল্ল্যাবাদ উত্তরপাড়া গ্রামে আত্রাই নদীর ডান তীর ভেঙে যায়।
নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে আত্রাই নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পানি বৃদ্ধি পেতে থাকে। এতে সকাল থেকে ওই দুই এলাকা হুমকির মুখে ছিল। এক পর্যায়ে পানির চাপে তা ভেঙে যায়। এতে দুইটি এলাকার প্রায় দুইশ পরিবার পানিবন্দী এবং প্রায় ১০০ হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে যায়।
এছাড়া জেলার ধামইরহাট উপজেলার শিমুলতলী আত্রাই নদীর পানি বিপদসীমার ১২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে এবং মান্দার জোতবাজারে আত্রাই নদীর পানি বিপদসীমার ৮০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে পত্নীতলা উপজেলা আত্রাই নদীর কাঁচারি এলাকায় বাঁধ ভাঙ্গার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী বালি বস্তার মাধ্যমে বাঁধ ভাঙনরোধে চেষ্টা করছেন। বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
মান্দা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রেজাউল করিম বাঁধ ভেঙে পরিবার পানিবন্ধি ও ফসলি জমি তলিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
- নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, মূল বাঁধ এখনও অক্ষত আছে। এছাড়া কোথাও কোনো ভাঙার ঘটনা ঘটেনি। কোথাও কোন সমস্যা না হয় এজন্য আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
সিরাজগঞ্জ
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের টানা বর্ষনে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে রোববার বেলা ২টায় শহর রক্ষা বাঁধ পয়েন্টে বিপদসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির সঙ্গে নিম্নাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেকশন অফিসার রনজিৎ কুমার সরকার জানান, বৃহস্পতিবার থেকে যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে।
রোববার সকাল ৬টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত যমুনা নদীর পানি ২৯ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানান, যমুনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও এখনও সেভাবে বন্যা শুরু হয়নি।
সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। সীমান্তের ওপার থেকে আসা পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিপাতে সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৮১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড।
সীমন্তবর্তী উপজেলাগুলোর অনেক সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন এসব এলাকার মানুষ। সুনামগঞ্জ শহরের নবীনগর-ধাড়ারগাঁও সড়ক উপচে শহরের ভেতরে প্রবল বেগে পানি ঢুকছে। শহরের তেঘরিয়া ঘাট এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
বন্যায় প্রায় চার হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ধান পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। দ্রুত পানি না কমলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। বন্যার কারণে গো-খাদ্যের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।
৮৯০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অর্ধশতাধিক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পানি প্রবেশ করেছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।


No comments
hi freinds