Buy now

Buy now

আওয়ামী লীগ বেহাল হয়ে পড়েছে :




আওয়ামী লীগ বেহাল হয়ে পড়েছে : মির্জা ফখরুল

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বাতিল হওয়ার প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ বেশ একটু বেহাল হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগ কি বললো না বললো তাতে আমাদের খুব একটা যায় আসে না। এজন্য যে, আওয়ামী লীগ আজকাল বেশ একটু বেহাল হয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যিনি পথেরও মন্ত্রী, সেতুরও মন্ত্রী, তিনি নিজে যে বেহাল অবস্থা করে রেখেছেন সড়কের ও জনপদের; তাতে করে রাজনীতির অবস্থা আরো বেহাল হয়ে পড়েছে। 
আজ রোববার দুপুরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিএনপি মহাসচিব এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর যে রায়, সেই রায়ে আমাদের যে বক্তব্য প্রমাণিত হয়েছে। আমরা মনে করি, এই রায়ের মধ্য দিয়ে এদেশের জনগণের যে মনের অবস্থা, তাদের যে আকাংখা-ইচ্ছা, তারা যে নির্যাতন-দমন নীতির মধ্যে রয়েছে সেটাই প্রমাণিত হয়েছে।
আজ দুপুরে বিএনপির ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের মহাসচিব অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বিএনপি মহাসচিব শেরে বাংলা নগরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন এবং ফাতেহা পাঠ শেষে শহীদ জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মুনাজাত করেন। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ড্যাব নেতা অধ্যাপক আবদুল মান্নান মিয়া, অধ্যাপক মোস্তাক রহিম স্বপন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে আপিল বিভাগের সর্বজন সম্মত রায়ের প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই রায়ে আমাদের বিশেষভাবে উৎফুল্ল হওয়া বা না হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা এজন্য উৎফুল্ল হয়েছি, আমাদের যে বক্তব্য এই সরকার সম্পর্কে, আওয়ামী লীগ সম্পর্কে, দেশের রাজনীতি সম্পর্কে, এ বিষয়ে জনগণের মতামতের প্রতিফলন হয়েছে। আমরা একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে এই রায়কে নিসন্দেহে স্বাগত জানিয়েছি। আমরা মনে করি, এই রায়ের ভিত্তিতে সরকার যদি ন্যূনতম মূল্যবোধ তাদের থাকে এবং নৈতিকতার লেশ মাত্র অবশিষ্ট থাকে তাহলে অবিলম্বে পদত্যাগ করে একটি সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে তাদেরকে অবশ্যই একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে যেখানে দেশের জনগণের মতামতের প্রতিফলন ঘটে।
ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাই বিএনপি মহাসচিব বলেন, অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য অলরেডি নাকচ হয়ে গেছে। আপনারা দেখেছেন তাদের দলের লোকেরাই বলেছেন যে, এটা তিনি ঠিক করেননি। আর অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে আমরা খুব বেশি গুরুত্ব দেই না।
২০ দলীয় জোটের সম্প্রসারণ ঘটবে কি-না? এমন প্রশ্নে জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা বরাবরই বলে এসেছি যে, ২০ দলীয় জোট হচ্ছে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করার জন্য গণতন্ত্রকামী দলগুলোর একটি জোট। যেকোনো ব্যক্তি বা সংগঠন আমাদের জোটের সাথে আসতে পারে যদি তারা আমাদের সাথে একমত হন। অন্যদিকে গণতন্ত্রকে রক্ষার ও পুনরুদ্ধারের জন্য, এই সরকারের যে অগণতান্ত্রিক দমননীতি চলছে তার বিরুদ্ধে যদি অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো জোট গঠন করে আন্দোলন, সংগ্রাম করতে চায় সেখানে আমাদের সম্পূর্ণ সম্মতি ও সমর্থন থাকবে।
স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, অতীতে বিএনপি কী আন্দোলন করেছে, কী আন্দোলন হয়েছে তা দেশের মানুষ জানে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির পূর্বে কী আন্দোলন হয়েছে, ২০১৫ সালে কী আন্দোলন হয়েছে, সবাই সেটা জানে। আপনাদের ভুলে গেলে চলবে না- নব্বইয়ের গণআন্দোলন ছিলো স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, ১/১১’র অবৈধ সরকারের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন ছিলো সবসময় বিএনপি তার ভূমিকা রেখেছে, বিএনপি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। আমরা গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপোসহীন, আমরা জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনার প্রশ্নের আপোসহীন। আমাদের আন্দোলন চলমান আছে এবং থাকবে।
বিশ্বজিৎ হত্যার রায় সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিশ্বজিৎ যখন হত্যা হয়, আমাদের চোখের সামনেই আওয়ামী লীগের চিহ্নিত সন্ত্রাসী যারা ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী ছিলো তারা বিশ্বজিৎকে হত্যা করেছিলো সবার সামনে। আমরা বরাবরই যেটা বলে আসছি যে, আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তারা হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে। বিশ্বজিৎ হত্যা তারই অংশ। আমরা দেশবাসীর সাথে আশা করবো সবচেয়ে বড় শাস্তি হবে। দুর্ভাগ্যজনক হলো এখনো অনেক হত্যাকারীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি, তাদেরকে আদালতে হাজির করতে সরকার সমর্থ হয়নি

No comments

hi freinds

jakwan ahmed. Powered by Blogger.