কুরআন-হাদীসের আলোকে সিলেট শরীফের ফযিলত!-মুফতী খন্দকার হারুনুর রশীদ
কুরআন-হাদীসের আলোকে সিলেট শরীফের ফযিলত!
--------------------------------------------
মুফতী খন্দকার হারুনুর রশীদ
বিশ্বমানবতার মুক্তি-শান্তি, উন্নতি ও অগ্রগতির মূলমন্ত্র পবিত্র কুরআনের সূরাতুল ফাতেহায় মহান আল্লাহ পাক স্বীয় বান্দাগণকে প্রার্থনা শিক্ষা দিতে গিয়ে বলেন-- আমাদেরকে সরল পথ দেখাও ; সেসকল লোকের পথ যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছো। (আয়াত: ৫-৬)
উল্লেখিত আয়াত দু'টি অত্যন্ত ব্যাপক ও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দু'য়া-- যা মানুষকে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। মানবসমাজের কোনো ব্যক্তিই এর গণ্ডির বাইরে নন। কারণ, সরল-সঠিক পথ ব্যতীত দীন-দুনিয়া কোনোটির-ই উন্নতি-অগ্রগতি ও সাফল্য অর্জন করা সম্ভব নয়। জগতের আবর্তন-বিবর্তনের মধ্যেও 'সরল পথ' প্রার্থনা পরশপাথরতুল্য-- কিন্তু মানুষ তা বুঝে না।
প্রথম আয়াতে বলা হয়েছে-- আমাদেরকে সরল পথ দেখাও বা দেখিয়ে দিন। এখানে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে যে, সরল পথ কোনটি?
সোজা-সরল পথ তো সে পথকেই বলে যাতে কোনো মোড় বা ঘোরপ্যাঁচ নেই এবং থাকে না। তো এর অর্থ হচ্ছে-- ধর্মের সে পথ যাতে 'ইফরাত' বা বাড়াবাড়ি এবং 'তাফরীত' বা কাটছাটের কোনো অবকাশ নেই। সর্বপ্রকার পরিবর্ধন ও পরিমার্জন মুক্ত এবং অতিরঞ্জন ও অতিবর্জন থেকে নিরাপদ পথই 'সরল পথ'।
দ্বিতীয় আয়াতে বলা হয়েছে-- সেসকল লোকের পথ যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছো। অর্থাৎ যেসকল লোক আপনার অনুগ্রহ লাভ করেছেন তাদের পথ। মহামহিম আল্লাহর কাছে পুরস্কৃত লোকজনের অনুসৃত পথই সরল পথ। এখানে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে যে, নেয়ামত বা অনুগ্রহপ্রাপ্ত লোক কারা?
সুতরাং যেসকল লোক আল্লাহ পাকের অনুগ্রহ লাভ করেছেন তাদের পরিচয় অন্য একটি আয়াতে তিনি বর্ণনা করে দিয়েছেন এভাবে যে, যাদের প্রতি আল্লাহ পাক অনুগ্রহ করেছেন তারা হচ্ছেন-- নবীগণ, সত্যসাধকগণ, শহীদগণ ও সৎকর্মশীলগণ। (সূরা: নিসা-৬৯)
আল্লাহ পাকের নিকট মকবুল-অনুগ্রহপ্রাপ্ত এই চারপ্রকার লোকজনের মাঝে সর্বোচ্চ স্তর ও মর্যাদা হলো নবী-রাসূলগণের। অতঃপর নবীগণের উম্মতদের মাঝে যারা সর্বোচ্চ সম্মানের অধিকারী তারা হলেন 'সিদ্দীক বা সত্যসাধকগণ'। যাদের মধ্য আধ্যাত্মিক ও রুহানী কামালিয়াত বা পূর্ণতা রয়েছে-- সাধারণ পরিভাষায় তাদেকে 'আউলিয়া' বলা হয়। আর যারা দীনের প্রয়োজনে নিজেদের জীবন পর্যন্ত উৎসর্গ করেছেন তাদেরকে বলা হয় শহীদ। এরপর 'সালেহীন বা সৎকর্মপরায়ণ' হচ্ছেন তারা যারা ওয়াজিব-মুস্তাহাব প্রভৃতি সকল ক্ষেত্রে শরীয়তের পূর্ণাঙ্গ অনুসারী ও আমলকারী। সাধারণ পরিভাষায় এদেরকে দীনদার বলা হয়।
পবিত্র কুরআনে আলোচিত এই সিদ্দীক-সালেহীনের মাধ্যমেই আমাদের সিলেট শরীফে সর্বপ্রথম সত্য ধর্ম ইসলামের বাণী পৌঁছে-- সেই খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকের গোড়ার দিকে। অন্যভাষায় বলতে গেলে-- যখন চট্রগ্রাম বাদে সারা দেশ ছিলো 'নাযাস-মুশরেকদের' বিচরণ ও আবাসে 'অপবিত্র' তখন সিলেট হয়ে ওঠে ঈমানী নূরে নূরান্বিত। ইসলামের আলোয় শরাফতময় ও পুত-পবিত্র। বিশেষতঃ সাহাবায়ে কেরাম বা তাবেয়ী ও তাবে'তাবেয়ীগণের আগমণ এবং সিলেট শরীফে ইসলাম প্রচারই শুধু নয়; বরং কেউ কেউ বৃহত্তর সিলেটের কোথাও কোথাও এই মাটিকে সম্ভাবনাময় এবং উপযুক্ত মনেকরে বসতিও স্থাপন করেন। হযরত গাজী বুরহান উদ্দীন (রাহ) ও তার আত্মীয়-স্বজন, হযরত শেখ নূর উদ্দীন (রাহ) ও তার পরিবার-পরিজন, হযরত খন্দকার মনু শাহ (রাহ), হযরত ফকীহ মোল্লা খন্দকার (রাহ) প্রমূখের বসবাস যার স্পষ্ট প্রমাণ বহণ করে। ইতিহাসের পাতায় যদিও সমকালীন গবেষকগণের হাতে কেবল এর সমূহ সম্ভাবনার কথা লিপিবদ্ধ আছে।
ফলে সিলেটে হযরত শাহ জালাল (রাহ) ও হযরত শাহ পরাণ (রাহ)-সহ তিনশত ষাট 'আউলিয়া' রাহিমাহুমুল্লাহ'র আগমণকালে মোট চার-চারটি অঞ্চলে পূর্বে থেকে মুসলমানদের বসবাস ছিলো। যারা সবাই আরোবি-তুর্কী ইত্যাদি বংশোদ্ভুত ছিলেন। তারা এসব অঞ্চলে বংশানুক্রমিকভাবে হযরত শাহ জালাল (রাহ) ও তার সহচরবৃন্দের আগমণের অনেক আগে থেকেই বসবাস করতেন।
আমাদের 'সিলেট শরীফ' এমন পবিত্র ভূমি যে, এখানকার মাটিকে মহান আল্লাহ পাক সিদ্দিকীন ও সালেহীনের কবরগাহের জন্য কবুল করেছেন। যেই মাটির বুকে শত শত সিদ্দিকীন-- 'ওলী-আউলিয়া', গৌছ-কুতুব, আবদাল-সাধক চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন। আর এই আমানত বুকে নেওয়া ও সংরক্ষণের সৌভাগ্য এতো ব্যাপকতরোরূপে অন্য কোনো অঞ্চলের হয় নি।এই গৌরব এককভাবে সিলেট শরীফেরই অর্জিত হয়। তারা বিয়েশাদির মাধ্যমে এই অঞ্চলে স্থায়ীভাবে বসবাস করায় বর্তমান বৃহত্তর সিলেটের বহু মানুষই তাদের ঔরসজাত উত্তরসূরি। তাই সিলেটী মুসলিমগণের শোণিতধারায় সিদ্দিকীন ও সালেহীনের রক্তকণিকা প্রবাহমান।
সংগত কারণে সিলেট শরীফের মানুষজন জন্মসূত্রেই পরম সৌভাগ্যের অধিকারী। এজন্য করুণাময় আল্লাহ এতো অধিকসংখ্যক সিদ্দিকীন ও সালেহীনের সেবা-পুনর্বাসন ও সার্বিক খেদমতের জন্য তাদেরকে নির্বাচিত করেন। এটা এই অঞ্চলের গণমানুষের মাকবুলিয়াতের দলীল। চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও বংশগত কৌলিন্যের দিক থেকেও এদের আসন অত্যন্ত শিখরে। অপরিসীম ত্যাগ-পরহিত, আতিথেয়তার মানস, পরোপকার-দানশীলতা, কল্যাণকামিতা-ভদ্রতা, সততা-বিনয়, সভ্যতা-শিষ্টাচার ও বিনম্রতা সিলেট শরীফের লোকজনের মাঝেই বিদ্যমান।
হাদীস শরীফে হযরত আবুহুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন-- তোমাদের নিকট ইয়ামানের লোকজন আগমণ করবেন ; তাদের অন্তর অত্যন্ত বিনম্র, হৃদয় অত্যন্ত কোমল। ইয়ামানী লোকদের ঈমান নিখাঁদ। ইয়ামানী লোকদের প্রজ্ঞা নির্ভেজাল। আর অহঙ্কার ও আত্মম্ভরিতা উট পালনকারীদের কাজ। স্থীরতা ও গাম্ভীর্য মেষ পালনকারীদের মাঝে বিদ্যমান। (বুখারী, মুসলিম, মেশকাত-- হাদীস নং ৬০০৫)
প্রিয়নবীজি (সা)-এর পবিত্র হাদীস অনুযায়ী এই দেশে একমাত্র আমাদের সিলেটে সুদূর 'ইয়ামান' থেকে সঙ্গী-সহচরের বহরসহ আগমণ করেছিলেন-- হযরত শাহ জালাল মুজাররাদে ইয়ামানী (রাহ)। যা বাংলাদেশের অন্য কোনো এলাকার মাটি ও মানুষের ভাগ্যে জুটে নি। সিলেট এমন বরকতময়-পবিত্র এলাকা যেখানকার মাটির সাথে ইয়ামানের মাটির সামঞ্জস্য ও মিল যেমন আছে তেমনই এই অঞ্চলের মানুষের আত্মা ও মনের সামঞ্জস্য রয়েছে ইয়ামানের মানুষের নরম-কোমল মন ও মননের সাথে। আর ঈমানের ব্যাপারে নিছক মিল বা সামঞ্জস্যতা বললে-- এটা হবে অকৃতজ্ঞতা ; বরং বলতে হবে এই দেশে একমাত্র আমাদের সিলেটের মানুষের ভাগ্যেই পূর্ণভাবে 'ইয়ামানী ঈমান' নসীব হয়। যা সরাসরি অন্য কোনো অঞ্চলে সংঘটিত হয় নি। এজন্যই তো সারা দেশের মাঝে একমাত্র 'সিলেট শরীফ'কে বলা হয়-- বাংলার আধ্যাত্মিক রাজধানী। আর সিলেট শরীফের মুসলিমগণই হরঅবস্থাতে সর্বাধিক মুত্তাকী ও আল্লাহভীরু।
একথা সত্য যে, সিলেট শরীফের মাটি ও মানুষ নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পায় নি কিন্তু আমরা পেয়েছি-- শাইখুল আরব ওয়াল আযম, আওলাদে রাসূল আল্লামা শাহ সাইয়েদ হুসাইন আহমদ মাদানী (রাহ)-কে। যিনি মাদীনাতুল মোনাওয়ারায় প্রিয়নবীজির (সা) রওজামোবারকের পাশে দীর্ঘ আটারো বছর ইলমে হাদীসের খেদমত করে এসে হযরত শাহ জালাল (রাহ)-এর বপিত ইয়ামানী ঈমানের চারাগুলোতে মাদানী-নববী পরিবারের 'রুহানী আবে হায়াত' সিঞ্চন করেন। জোরালো আবেদন আসার পরও দারুল উলূম দেওবন্দে 'সদরুল মোদাররেসীন' ও 'শাইখুল হাদীস' পদবী গ্রহণ না করে হযরত কুতবুল আলম রাহমাতুল্লাহি আলাইহি সিলেট শরীফের পবিত্র মাটিতে এতোদঞ্চলের দীনদার-সালেহীনকে নিয়ে ক'টি বছর সময় কাটানোকে অধিক ফযিলতপূর্ণ মনে করেন এবং সিলেট শরীফে অবস্থান করাকে প্রধান্য দেন।
পবিত্র রমযান এলে সিলেট শরীফের ঐতিহ্যবাহী নয়াসড়ক জামে মসজিদে শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ সাইয়েদ হুসাইন আহমদ মাদানী (রাহ) ধর্মভীরু ভক্তকূলকে নিয়ে পূর্ণ মাসব্যাপী এ'তেকাফ করতেন। নয়াসড়ক মসজিদে তিনি সিলেটবাসীকে নিয়ে বারবার এ'তেকাফ করেন। অথচ, এ'তেকাফের জন্য সর্বোত্তম স্থান হলো মসজিদুল হারাম। এরপর মসজিদে নববী (সা)। এরপর মসজিদে আকসা। (শামী-০২য়, আলমগীরি-১ম) কিন্তু তিনি কেনো সারা দুনিয়াকে বাদদিয়ে 'সিলেট শরীফ'কে স্বীয় এ'তেকাফের জন্য নির্বাচিত করলেন? এর অন্যতম কারণ হলো-- হযরত শাহ জালাল (রাহ)-এর রেখে যাওয়া 'ইয়ামানী ঈমানে' শুদ্ধির শান দেওয়া। আধ্যাত্মিক বরকত হাসেল করা। কেনোনা, এই মাটিতে যারা শায়িত আছেন সেসব মর্দেমুমিনের জন্য সরাসরি নবীজি (সা)-এর আন্তরিক দু'য়া ও কল্যাণকামনা রয়েছে। নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইয়ামানী প্রিয়জনদের পদস্পর্শে ধন্য মাটিতে কিছু সময় কাটাতেই তিনি এখানে বহুবার এ'তেকাফ করেন।
তিরমিযী শরীফের এক হাদীসে হযরত আনাস (রা) ও হযরত যায়েদ ইবনে সাবিত (রা) থেকে বর্ণিত আছে-- একদা নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামানের দিকে তাকিয়ে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন যে, হে আল্লাহ! ইয়ামানের লোকজনকে আমাদের অভিমুখী করে দিন। তাদের অন্তরকে আমাদের প্রতি আকৃষ্ট করে দিন। অপরাপর হাদীসেও এমন কথামালা বিবৃত আছে এভাবে--
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) থেকে বর্ণিত-- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, হে আল্লাহ! আমাদের সিরিয়ায় বরকত দান করুন। হে আল্লাহ! আমাদের ইয়ামানে বরকত দান করুন।
সাহাবীগণ (রা) বললেন-- হে আল্লাহর রাসূল (সা) আমাদের নজদের জন্যও দু'য়া করুন।
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আল্লাহ! আমাদের সিরিয়ায় বরকত দান করুন। হে আল্লাহ! আমাদের ইয়ামানে বরকত দান করুন।
সাহাবীগণ (রা) বললেন-- হে আল্লাহর রাসূল (সা) আমাদের নজদের জন্যও দু'য়া করুন।
ইবনে ওমর বলেন-- আমার ধারণা, তৃতীয়বার নবীজি (সা) বলেন-- এই অঞ্চলে ভূ-কম্পন ও ফেতনা হবে। আর এখানে শয়তানের শিং প্রকাশ পাবে। (বুখারী, মেশকাত-- হাদীস নং ৬০০৯)
শাইখুল ইসলাম, আওলাদে রাসূল (সা) আল্লামা শাহ সাইয়েদ হুসাইন আহমদ মাদানী (রাহ) ১৯২৩ সালে সিলেট শরীফে আগমণ করেন। তিনি এখানে প্রথমে একাধারে তিনবছর অবস্থান করেন এবং তাসাউফের সাধনার পাশাপাশি 'মারকাযী মাদরাসা' প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তা'লিম ও সিয়াসাতের কাজ পরিচালনা করেন। এসময় তিনি স্বপরিবারে সিলেট শরীফে বসবাস করেছিলেন। ১৯৪৭ সালে ভারত-বিভক্তির পূর্ব পর্যন্ত প্রতিবছর তিনি নয়াসড়ক মসজিদে এ'তেকাফ করতেন। হযরত শাইখুল ইসলাম মাদানী (রাহ)-এর সুযোগ্য উত্তরসূরি ফেদায়ে মিল্লাত, আওলাদে রাসূল আল্লামা সাইয়েদ আসআদ মাদানী (রাহ) স্বীয় শৈশব ও কৈশোরের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ পিতার সাথে এখানে ব্যয় করেন। পরবর্তীতে একপর্যায়ে তিনিও স্বীয় পিতার আধ্যাত্মিক মেহনতের অমীয় ধারা পরিচর্যা করেন। তার ইন্তেকালের পর থেকে যা জানশীনে শাইখুল ইসলাম আওলাদে রাসূল আল্লামা সাইয়েদ আরশাদ মাদানী দা-মাত বারাকাতুহুম আঞ্জাম দিচ্ছেন। স্বপরিবারে সিলেট শরীফে অবস্থানকালে হযরত শাইখুল ইসলাম আওলাদে রাসূল আল্লামা সাইয়েদ হুসাইন আহমদ মাদানী (রাহ)-এর একজন শিশুকন্যা এখানে ইন্তেকাল করলে তাকে হযরত মানিক পীর রাহমাতুল্লাহি আলাইহির কবর পাশে সমাহিত করা হয়। ছোট্র আকারে যা বর্তমানে পাকা অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।
বলাবাহুল্য সিলেটের সৌভাগ্যবান মানুষ বক্ষে লালন করছেন 'ইয়ামানী ঈমান'। সিলেটের পবিত্র মাটি বক্ষে ধারণ করে আছে অমূল্য আমানত-- ইয়ামানী স্বর্ণমানব সিদ্দিকীন-সালেহীনের অসংখ্য কায়া। সিলেটের সৌভাগ্যবান মানুষ তাদের ঈমানে পরিশোধন আনেন আওলাদে রাসূলগণের দ্বারা। সিলেটের পবিত্র মাটি বক্ষে ধারণ করে আছে অমূল্য আমানত-- আওলাদে রাসূলের একজন শিশুসন্তানের কায়া। নববী বংশধারার একটি দেহ।
খ্রিস্টীয় ১৩০৩ সালে হযরত শাহ জালাল মুজাররাদে ইয়ামানী (রাহ)-এর আগমণ ও সিলেট শরীফ বিজয়ের পর থেকে প্রায় আড়াইশবছর পর্যন্ত এখানে তার প্রবর্তিত ইসলামী হুকুমতের ধারা অব্যাহত থাকে। সে থেকে ধীরে ধীরে অনেকে 'সিলেট' নামের পরিবর্তে 'জালালাবাদ' বলা শুরু করেন। যা এখনো সিলেট শরীফের দ্বিতীয় নাম হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। সম্রাট শাহ জাহান যখন তার শাসনকালে (১৬২৭-১৬৫৮ খ্রি.) 'সিলেট শরীফ' সফরে এসেছিলেন তখন এই অঞ্চলের মানুষের তাকওয়া-দীনদারি, পরোপকার, উদারতা-দানশীলতা ও স্বচ্ছলতা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে বিমুগ্ধ হয়ে বলেছিলেন-- এই এলাকা তো জালালাবাদ নয়; আমি আসলে 'জান্নাতাবাদ' হিসেবেই দেখতে পাচ্ছি। সুতরাং সিলেট শরীফের তৃতীয় আরেক নাম হলো-- জান্নাতাবাদ। যে নামখানা রেখেছিলেন-- সম্রাট শাহ জাহান।
হযরত আল্লামা শাইখ আহমদ আলী বাঁশকান্দি (রাহ) স্বীয় মুর্শেদ শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাহ সাইয়েদ হুসাইন আহমদ মাদানী (রাহ)-এর উক্তি নকল করে বলেন-- যদি স্বল্প সময়ের জন্য 'খানায়ে কা'বা' ও 'রওজায়ে আতহার'কে পবিত্র মক্কা-মদীনা থেকে সরিয়ে নিয়ে আমাকে প্রশ্ন করা হয় এবার সমগ্র জগতের মাঝে কোন স্থানটি সর্বাধিক মর্যাপূর্ণ ও পবিত্রতম তখন আমি নির্দ্বিধায় বলবো-- সিলেটের মাটি ও মানুষের কথা।
বর্তমান বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ইসলামী চিন্তাবিদ আল্লামা মুফতী তকী ওসমানী (দা-মাত বারাকাতুহুম)-এর মতে-- আধুনিক বিশ্বের অন্যতম ধর্মভীরু-মুত্তাকী মুসলিম জনসাধারণ এবং অধিকসংখ্যক ওলামা ও মাশায়েখে কেরামের আবাসভূমি এই সিলেট শরীফ। সিলেটের মাটি বহু ঐতিহ্যের নীরব সাক্ষী। এখানকার অধিবাসীগণ সহজ-সরল, সুসভ্য-কোমলপ্রাণ ও অতিথিপরায়ণ।
হে আল্লাহ! আপনি আমাদের সিলেট শরীফের মাটি ও মানুষকে কেয়ামত পর্যন্ত সময়ের জন্য আপনার দীনের সত্যিকারের দুর্গ ও সেবকরূপে করুন। আ মীন।
.
লেখক:
খন্দকার হারুনুর রশীদ
ফতেহপুর, গোয়াইনঘাট, সিলেট।
৩০/০৬/২০১৭ খ্রি



No comments
hi freinds