কাতার ক্রাইসিসে তেরো দফায় কী আছে?
গৌতম দাস
কাতার ক্রাইসিস নিয়ে এর আগেও লিখেছিলাম। ব্যাপারটা আসলে, সৌদি ক্রাইসিস বা ‘কাতার নিয়ে সৌদি আরবের তৈরি করা ক্রাইসিস’। লিখেছিলাম, তুরস্কের সাথে কাতারের ২০১৪ সালের সামরিক সহযোগিতা যুক্তি মোতাবেক তুরস্কের সৈন্য কাতারে পৌঁছেছে। এতে সৌদিসহ চার রাষ্ট্র, কাতার যাদের দিক থেকে সামরিক হামলার আশঙ্কা করছিল, দেশটিতে চার পড়শির পছন্দের কাউকে আমির বানানোর সম্ভাবনা এতে নষ্ট হয়ে যায়। ব্যাপারটা আর সামরিক নয়। অ-সামরিক পথে ফায়সালার রাস্তা না ধরে উপায় থাকল না।
সর্বশেষ ঘটনা হলো, কাতারের ‘করণীয়’ ১৩ দফা দাবি ওই চার রাষ্ট্র হস্তান্তর করেছে। ১০ দিনের মধ্যে এটা পূরণ করতে হবে। অনেকের আশঙ্কা এই ১৩ দফা নতুন সঙ্ঘাতের ইঙ্গিত। সে প্রসঙ্গে যাওয়ার আগে কিছু তথ্য ও পরিস্থিতি জানিয়ে নেই।
ট্রাম্পের আগে কোনো আমেরিকান প্রেসিডেন্ট এমন বেইজ্জত হয়েছেন কিনা জানা নেই। কিন্তু ট্রাম্প নিজের প্রশাসনের ঘোষিত নীতি ও অবস্থানের উল্টো দিকে গিয়ে কাতারের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন। তা-ও নিজের (কমিশনভোগী তদবির পার্টি, লবি ব্যবসায়ী) বন্ধুদের খুশি করতে অসত্য বলেছেন, ‘লিপ সার্ভিস’ দিয়েছেন। পরের দিন ঠিক উল্টো, কাতারের আমিরকে ফোন করে নিজ প্রশাসনের ঘোষিত নীতি অবস্থানের পে ফিরে আসার কথা জানিয়েছেন। এবার জিসিসি-বিরোধে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকাও অফার করেছেন। ওদিকে ট্রাম্পের মন্ত্রী-উপদেষ্টারা বিশেষ করে পররাষ্ট্র ও প্রতিরা অফিস যেন পালা করে বলে বেড়িয়েছে (ট্রাম্প যেটা বলে ফেলেছেন), আমেরিকার আসল নীতিগত অবস্থান ও স্বার্থ সেটা নয়। অর্থাৎ সৌদি প্রচারণার প্রভাবে পড়ে ট্রাম্পের কথা যেটা প্রকাশ পেয়েছে, সেটা সঠিক নয়।
আমেরিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যাকে ওরা স্টেট ডিপার্টমেন্ট বলেন, এর এখনকার মুখপাত্র হলেন হিদার ন্যুয়ার্ট। আমেরিকান বিনিয়োগবিষয়ক ম্যাগাজিন ‘ব্লুমবার্গ’ এবং ব্রিটিশ পত্রিকা গার্ডিয়ান ২০ জুন তাকে উদ্ধৃত করে লিখেছে। তিনি বলেছেন, ‘আজ কাতারের ওপর অবরোধের দুই সপ্তাহ হয়ে গেল। অথচ আমরা এখনো এক রহস্যের মধ্যে আটকে আছি। (সৌদিসহ) গালফ রাষ্ট্রগুলো যারা কাতারের ওপর অবরোধ আরোপ করেছে, তাদের কাতারের বিরুদ্ধে আসলে অভিযোগটা কী? তারা সেটা না জনসমে প্রকাশ করেছেন, না এটা তারা কাতারের কাছে প্রকাশ করেছেন, না বিস্তারিতভাবে তাদের দাবি কোথাও তারা হাজির করেছেন।’
‘... এ দিকে যতই সময় যাচ্ছে ততই সৌদি আর ইউএই এদের পদপে কী নিয়েছে, কী হতে যাচ্ছে তা নিয়ে সন্দেহ বাড়ছে।’ ‘‘... এই অবস্থানে দাঁড়িয়ে আমাদের ছোট্ট প্রশ্ন একটাই : কাতারের বিরুদ্ধে তাদের নেয়া পদপেগুলো এবং উদ্বেগ এগুলো কি আসলেই কাতারের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসবাদকে সমর্থনদানের অভিযোগ’ এর কারণে? নাকি অন্য কিছু, ব্যাপারটা আসলে জিসিসির রাষ্ট্রগুলোর পরস্পরের বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিনের জমে থাকা কোনো ােভ।’’
হিদার এমন কথা প্রেসের সামনে বলছেন আসলে নিজের প্রেসিডেন্ট যে জটিলতা সৃষ্টি করেছেন সেখান থেকে সবাইকে বের করতে। ব্যাপারটা হলো, ট্রাম্প মাসখানেক আগে সৌদি আরব সফরের সময়, এমনকি কাতারের বিরুদ্ধে সৌদি অবরোধের পরের দিনওÑ কাতারকে ‘সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন দানকারী’ হিসেবে অভিযোগ করে ফেলেছেন। কিন্তু সমস্যা হলো, এই অভিযোগের সারবত্তা তিনি আমেরিকার অফিসিয়াল ডকুমেন্টে থেকে নেননি। সেসবের বাইরে গিয়ে, কাতার প্রসঙ্গে সৌদি ােভ-অভিযোগের সাথে সুর মিলিয়ে পুরো উল্টো অবস্থান তিনি নিয়েছিলেন; তার লবি ব্যবসায়ী বন্ধুদের খুশি করতে। ফলে স্টেট ডিপার্টমেন্ট এখন এই বিশাল ডকুমেন্টাল বেমিল সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। গত ১৫ জুন আমেরিকা এক ডজন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান কাতারকে বিক্রির চুক্তি করেছে। আর এটা গত নভেম্বরে ওবামা প্রশাসনের হাতে আগে থেকে অনুমোদিত হয়েই ছিল; যেটার আলোকে গত ১৫ জুন এবার দুই রাষ্ট্রের পারস্পরিক চুক্তিটা কেবল স্বার করা হলো। ওই অভ্যন্তরীণ অনুমোদনের ফাইলে গত নভেম্বর মাসে স্টেট ডিপার্টমেন্টের নোটে লেখা হয়েছিল, এই যুদ্ধবিমান বিক্রি করা হচ্ছে আমেরিকার ‘বিদেশনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তাকে এগিয়ে নেয়ার প্রয়োজনে; তাই আমরা বন্ধুরাষ্ট্রের নিরাপত্তার উন্নতিতে সাহায্য করছি আর এভাবে আমাদের দুই রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পর্ককে শক্তিশালী করছি।’ এখন খাতাপত্রে এসব লেখা থাকলে ট্রাম্পের কাতারের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ’ তিনি কিভাবে মেলাবেন? এটাই আসল সমস্যা। আর কাতার সন্ত্রাসবাদী হলে তার কাছে আমেরিকা যুদ্ধবিমান বেচে কোন যুক্তিতে। তাই স্টেট ডিপার্টমেন্ট সিদ্ধান্ত নেয়, রেকর্ড সোজা রেখে সে অনুযায়ী চলবে।
এরপর তারা প্রশ্ন করে, সৌদি ও তার বন্ধুদের কাতারের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো কী? এর সপে প্রমাণইবা কী? এসবের কোনো অফিসিয়াল ডকুমেন্ট সৌদি আরব কাউকেই দেয়নি। তাই স্টেট ডিপার্টমেন্টের সিদ্ধান্ত, পরের দিন সৌদি ও তার বন্ধুদের তাদের ‘অভিযোগ ও প্রমাণ কী’ তা দিতে আহ্বান জানানো হবে। ফলে পরদিন ২১ জুন রেক্স টিলারসনের বিবৃতি আসে। কিন্তু সৌদি কর্তৃপক্ষ গড়িমসি করলে তিনি চাপ সৃষ্টি করেন। এরই ফলাফলে ওই ১৩ দফা দাবিনামা প্রস্তুত করে তারা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতারের কাছে পাঠালেন। কিন্তু যেকোনো অভিযোগ তোলা আর ডকুমেন্টে এর প্রমাণ দেয়ার মাঝে আকাশ আর পাতালের ফারাক থাকলেও সৌদি ও বন্ধুরা তা এড়িয়ে কেবল লিখিত অভিযোগই হাজির করেছেন। অবশ্য টিলারসন বিবৃতিতে ‘রিজনেবল ও অ্যাকশনেবল’ মানে যুক্তিবুদ্ধি প্রমাণসম্পন্ন এবং যা নিয়ে বিরোধ মীমাংসায় আগানো যায়, এমন ভঙ্গিতে অভিযোগ দিতে বলেছিলেন। কিন্তু সে চার রাষ্ট্র এর ধারে কাছে যায়নি বরং কোনো বিরোধ মীমাংসায় তাদের ইচ্ছা নেই, এটাই কার্যত প্রমাণ করেছে।
দুনিয়াতে আধুনিক রাষ্ট্র ও এর ব্যবস্থাবলি বড় আকারে হাজির হয়েছে বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯৪৫ সাল থেকে। এর উল্লেখযোগ্য মাইলস্টোন হলোÑ জাতিসঙ্ঘের জন্ম, মানবাধিকার সনদ ইত্যাদি। এ কথাগুলো চূড়ান্ত বিচারে নয় বরং তুলনামূলক অর্থে; ‘আগে আরো খারাপ কিছু ছিল, এটা তার চেয়ে ভালো’ অর্থে। ফলে যেগুলোকে উল্লেখযোগ্য ঘটনা বলছি সেসবের অনেক সীমাবদ্ধতা ও স্ববিরোধিতাসহ বিভিন্ন ত্রুটি-খুঁতের কথাও বলা সম্ভব। আর এসবের বহু আগে ১৬৪৮ সালের সার্বভৌমত্ব ধারণা থেকে শুরু করে, ‘মনার্কি বা রাজাগিরি চলবে না, রিপাবলিক কায়েম হতে হবে’ ইত্যাদি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ধারণা সর্ব-রাষ্ট্রীয় কনভেনশন, চুক্তি বা আন্তর্জাতিক আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে।
এই আলোকে, কাতারকে দেয়া ওই ১৩ দফায় কী আছে, এর চেয়ে কী পূর্ব অনুমানের ওপরে দাঁড়িয়ে দাবিগুলো করা হয়েছে তা জেনে বুঝা যায়, সেটা খুবই মারাত্মক। ব্যাপারটা হলো, কাতার কোনো ‘স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র’ এটা মনে করে বা অনুমানে স্বীকার করে অথবা যেসব অধিকার আইন কনভেনশনের কথা বললাম সেগুলো সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থেকে বা গুরুত্ব বুঝে এই ১৩ দফা দাবি প্রণয়ন করা হয়নি। ফলে একটা স্ববিরোধী অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। যেমন কাতারকে যদি সৌদিসহ ওই ক’টি রাষ্ট্র ‘স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র’ মনে নাই করে, তাহলে কাতারের কাছে দাবি জানানোর কী আছে, তার ভিত্তি কই? কেউ বলতে পারে, দখল নিয়ে নিলেই তো হয়! নয় কী?
এটাও মনে রাখা দরকার ১৯৮৯ সালে কাতারের মতোই ুদ্র কুয়েত রাষ্ট্র দখল করে নিয়েছিলেন ইরাকের সাদ্দাম হোসেন। আমেরিকার হাতে তার হেনস্তা হওয়ার বিরুদ্ধে দুনিয়ার গণসহানুভূতি সাদ্দাম পেয়েছিলেন। তা সত্ত্বেও সত্য হলো, কুয়েত স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে জাতিসঙ্ঘের সদস্য রাষ্ট্রÑ এই মর্যাদা ইরাক ভঙ্গ করায় জাতিসঙ্ঘের ভোটাভুটির সময়ে কোনো রাষ্ট্র বাকি ছিল না যে ইরাকের নিন্দা করেনি, ইরাকের পদপেকে ভুল বলেনি। ফলে ১৯৯০ সালে বোমা মেরে ইরাকের হাত থেকে আমেরিকার ‘কুয়েত উদ্ধার’ করে দেয়ার েেত্র আইনি সমর্থনের কোনো সমস্যা হয়নি। তবু আমাদের এটা মনে করা ভুল হবে যে, জাতিসঙ্ঘের সব সদস্য রাষ্ট্র সাদ্দামের প্রতি নিন্দা-ভোট দিয়েছিল তাকে অপছন্দ করত বলে, তা একেবারেই নয়। তাহলে? প্রত্যেকেই বিশেষ করে ছোট রাষ্ট্রগুলো সবাই নিজ সার্বভৌমত্ব রার কথা চিন্তা করে ‘কারো সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করা যায় না’- এই নীতির সপে দাঁড়িয়েছিল। একেবারেই নিজ মৌলিক স্বার্থে তারা সেটা করেছিল, যদিও এর ফায়দা নিয়েছিল বাবা বুশের আমেরিকা। ফলে এখনই বলা যায়, সৌদি আরব ও তিন রাষ্ট্র ওই ১৩ দফা দাবি জানিয়ে আসলে নিজেদের সার্বভৌমত্বকেই বিপন্ন করছে। কারণ কেউ বলতে পারে না, আজ কাতারের বিরুদ্ধে তারা যা করছে কাল তা তাদের নিজের বিরুদ্ধে যদি অন্য কেউ করে, তখন সে কোথায় যাবে? এ কথাও ঠিক, রাজাগিরি করে যারা মতায় থাকেন প্রজাতন্ত্র, আইন ইত্যাদি সাধারণ অর্থও তারা বুঝতে পারেন না। হয়তো মনে করে আইন আবার কী? আমি যেটা বলব সেটাই তো আইন।
ওই ১৩ দফার ১১ দফায় দাবি করা হচ্ছে, ‘কাতারকে অন্যান্য গালফ ও আরব দেশগুলোর সাথে মিলিয়ে একই সামরিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক নীতি মেনে চলতে হবে। এমন নাকি ২০১৪ সালে কেবল সৌদি আরবের সাথে একটা চুক্তিও ছিল।
তেরো দফার আট নম্বর দফায় আছে, ‘সার্বভৌম রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তপে বন্ধ করতে হবে’। এর অর্থ ‘সার্বভৌম, রাষ্ট্র, অভ্যন্তরীণ বিষয় অথবা হস্তপে ইত্যাদি বিষয়গুলা সৌদি শাসকরা (বিশেষ করে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান) বোঝেন। ওই দফায় পরের অংশে আরো দুটো বাক্য আছে। যেমন, ‘সৌদিসহ ওই চার রাষ্ট্রের ফেরারি নাগরিকদের কাতারি নাগরিকত্ব দেয়া বন্ধ করতে হবে। দেয়া নাগরিকত্ব প্রত্যাহার করে আইন ভঙ্গকারীদের হস্তান্তর করতে হবে।’ ‘আমিই প্রজাদের মালিক’Ñ এই অনুমানে এই দাবি করা হয়েছে। কিন্তু এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন স্পষ্ট। এখানে উভয় রাষ্ট্রের মধ্যে আগে হস্তান্তর (এক্সট্রাডিশন) চুক্তি থাকতে হবে। আর ক্রিমিনাল রাজনৈতিক কারণের ঘটনা হলে কাতার আশ্রয় দিতে পারবে। আশ্রয়প্রার্থী নিজ দেশে ফিরে গেলে তার মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের সম্ভাবনা থাকলে, তাকে অবশ্যই তাড়িয়ে দেয়া যাবে না এবং সশ্লিষ্ট রাষ্ট্রটি নিজ বিবেচনায় নীতির কারণে আশ্রয় দেবে।
নয় নম্বর দাবিটি প্রায় একই রকম। এখানে সুনির্দিষ্ট করে বলা হয়েছে, ওই চার রাষ্ট্রের রাজনৈতিক সব বিরোধী ব্যক্তির সব তথ্য দলিল দস্তাবেজসহ কাতার কর্তৃক হস্তান্তর করতে হবে। কিন্তু এই কাজ করলে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কমিশনে উল্টো কাতার অভিযুক্ত হবে। ‘রাজনৈতিক বিরোধী’ হওয়া কোনো অপরাধ নয়। তবে কেবল যারা সশস্ত্র বলপ্রয়োগে কোনো রাষ্ট্রের সরকারকে উৎখাতে লিপ্ত, তাদের সহযোগিতা না করার কথা অন্যরা বলতে পারেন। কিন্তু বিরোধী রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের হস্তান্তরের দাবি করতে পারেন না। এটা আন্তর্জাতিক আইন না বুঝে ‘রাজাগিরি’ বা ‘মালিক’ হিসেবে নিজেকে দেখানোর কারণেই ঘটেছে। রিপাবলিক ধারণা না বোঝা শাসকদের চিন্তাসঙ্কট এটা।
এক নম্বর দাবিতে বলা হয়েছে, ইরানের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য ছাড়া সব সম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে। এখানে একটা কায়দা-কৌশল নিয়ে লেখা হয় ‘আমেরিকার সাথে মিলিয়ে’। এখন অন্য রাষ্ট্রকে কেন আমেরিকার সাথে মিলিয়ে ঠিক করতে হবে যে, ইরানের সাথে কে কেমন সম্পর্ক রাখবে? একটা রাষ্ট্র আরেক সার্বভৌম রাষ্ট্রকে কি এটা বলতে পারে? কাতার কী করবে, সেটা কী পড়শি ঠিক করবে?
দুই নম্বর দাবি বলছে, ‘সন্ত্রাসবাদী’ সংগঠনের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। কিন্তু কারা ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন? কে সেই তালিকা করছে? জাতিসঙ্ঘ? নাকি আমেরিকা? এমনিতেই, এই দুই তালিকাই খামখেয়ালিতে ভরা। ‘সন্ত্রাসের’ সংজ্ঞা কী, এর কোনো সর্ব-রাষ্ট্র গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা নির্ধারণ করে নেয়া হয়নি। বরং এক, তালিকা আছে ‘যারে দেখতে নারি তারে’ এই লিস্টে রাখা হয়েছে। এই দুই নম্বরের দাবির মধ্যে ‘বিশেষ করে’ যেমন, ব্রাদারহুড, দায়েশ, আলকায়েদা, হিজবুল্লাহ ইত্যাদিÑ এভাবে বলা হয়েছে। কিন্তু ব্রাদারহুডের নাম সন্ত্রাসী হিসেবে জাতিসঙ্ঘ, আমেরিকা বা ব্রিটেনের তালিকাতেও নেই। তাহলে? কোনো যুবরাজ অথবা স্বৈরশাসকের তা মনে হলেই হবে? এ ছাড়া আরেক কাহিনী আছে। খোদ কাতার দায়েশকে সহায়তা করেছে কি না, এর অকাট্য প্রমাণ লাগবে। সে প্রমাণ কই? আর এ ছাড়া ফাঁকা অভিযোগের মূল্য কী?
ছয় নম্বর দফাতে বলা হয়েছে, ফান্ড দেয়া যাবে না সন্ত্রাসবাদীদের। তবে এবার সৌদি নেতৃত্বে যাদের ‘টেররিস্ট’ ঘোষণা করা হলো সেটা মানতে হবে।
তিন নম্বর দফা, টিভি চ্যানেল আলজাজিরা বন্ধ করার দাবি। বোঝা গেল, তাদের অনেক রাগ। কিন্তু কেন? কোনো কারণ উল্লেখ করা নেই। কোনো সুনির্দিষ্ট ধরনের টিভি প্রোগ্রামের কথাও বলা হয়নি। এসবই হলো কাতার সঙ্কটের ১৩ দফা।
লেখক : রাজনৈতিক বিশ্লেষক
goutamdas1958@hotmail.com



No comments
hi freinds